হিন্দুরা যদি গানবাজনা করতে চায় অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন গোয়ালন্দের তৌহিদ জনতা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেখ মমিন:গোয়ালন্দ বাজার বড় মসজিদের ইমাম ও খতিব, হাফেজ মোঃ আবু সাঈদ বলেছেন, এই গোয়ালন্দ উপজেলায় আমরা আর কখনো কোন গান বাজনা হতে দেবো না। কাউকে কোন শিরিক করতে দেবো না। কেউ যদি গানবাজনা বা যাত্রা পালা করাতে চায় তাহলে আমরা প্রতিহত করবো। এবং এখন থেকে হিন্দুরা যদি গানবাজনা করতে চায় আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। একই সাথে বৌদ্ধধর্মসহ অন্যান্য ধর্মের কেউ যদি গানবাজনা করতে চায় এ উপজেলায় তাহলে আমরা সময় নির্ধারণ করে দেবো সেই সময়ের মধ্যেই তাদের গানবাজনা শেষ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্যে এখানে আসছি, আওয়ামী লীগের নেতা রহিম বিডিয়ার বিভিন্ন খারাপ কাজে বেদাদ শিরিক কাজে লিপ্ত ছিলো। সেই পেক্ষাপটেই আমরা তার বাড়ীতে বিচার গান ও যাত্রাপালা বন্ধের দাবিতে আমরা আসছি। আর গোয়ালন্দে ইমাম মেহেদী দাবি করেছিলো নুরাল পাগল তার নেতৃত্বেই রহিম বিডিয়ার তার মৃত ছেলের একটা মাজার করেছে। ঐ মাজারের উদ্বৃত্ত দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা আনে বিভিন্ন মিথ্যা কথা দিয়ে। মাজারের নামেও তিনি বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা প্রচার করেন। যার কারণে স্থানীয় ভাবে তার একাজ কে বিরোধীতা করে। আর আমরা এখান থেকে ঘোষণা দিচ্ছি গোয়ালন্দ থেকে শিরিক বেদাদের কাজ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ওহেদ শেখের পাড়া জামে মসজিদে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের তৌহিদ জনতা এর ব্যানারে সামাজিক অপসংস্কৃতি, বেহায়াপনা ও অনইসলামিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
গোয়ালন্দ আল জামিয়া নিজামিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসার, নায়েবে মুহতামিম, হাফেজ মাওলানা মুফতি শামসুল হুদা এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন: গোয়ালন্দ বাজার বড় মসজিদের ইমাম ও খতিব, হাফেজ মোঃ আবু সাঈদ, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব, মুফতি আজম হোসেন, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা সালাউদ্দিন, হাফেজ আ: করিম, মাওলানা আ: লতিফ, মাওলানা আযম আহমেদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা জহিরুল ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা তারেক বিল্লাহ এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল হক, স্থানীয় বাসিন্দা মো: মোসলেম শেখ সহ অন্যন্যারা।
বক্তারা এসময় হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতি বছর এখানে বেদাদ সহ নানা ধরণের খারাপ কাজ করে চলেছেন আওয়ামী লীগ রহিম বিডিয়ার। স্বৈরাচারের আমলে অনেক বেদাদ শিরিক ও মাজারের কাজ হলেও বর্তমানে এ উপজেলায় বা দৌলতদিয়া আওয়ামী লীগ নেতা রহিম বিডিয়ারের বাড়ীতে আমরা মাজার পূজা বা কোন গানবাজনা হতে দেবো না। আমরা এ গান বন্ধের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে সেটা বন্ধ করেছে। আমরা চাই এটা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হোক। আর এরপরও যদি এটা বন্ধ না হয় তাহলে আমরা তৌহিদ জনতা কঠোর ভাবে এটা প্রতিহত করবো।
স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম শেখ বলেন, রহিম বিডিয়ারের বাড়ীতে গান বাজনার কারণে বিভিন্ন অন্যায় কাজ বেড়ে চলছে। আমরা কখনোই এই অন্যায় কাজ কে মেনে নিতে পারবো না। আর কোরআন বিরোধী কাজ হলে সেটা আমরা যুবসমাজদের নিয়ে আলেম সমাজদের নিয়ে আমরা সেটা প্রতিহত করবো।
উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব, মুফতি আজম হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা রহিম বিডিয়ারের বাড়ীতে ৭ দিন ব্যাপী বিচারগান যাত্রাপালা নাচের অনুষ্ঠান বাউল গান সহ অনইসলামিক কার্যক্রম হয় সেটাকে ১৪৪ জারি করে বন্ধ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বস্ত্র সুত্রে জানতে পেরেছি যে সেটা সে চালু করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা এখানে সবাই উপস্থিত হয়েছি। যদি এটা বন্ধ না হয় তাহলে আমরা রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা নেবো। এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমান যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও গোয়ালন্দ আল জামিয়া নিজামিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসার, নায়েবে মুহতামিম, হাফেজ মাওলানা মুফতি শামসুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা রহিম বিডিয়ারের বাড়ীতে গানবাজনা বন্ধের দাবিতে আমরা আবেদন করেছি। প্রশাসন আমাদের আবেদন সাড়া দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে সেটা বন্ধ করেছে। আমরা জানতে পেরেছি কোন রাজনৈতিক ছদ্র ছায়ায় আবারো গানবাজনা করার চেষ্টা করছে। কাজেই আমরা শান্তসৃষ্ট ভাবে এখানে জমায়েত হয়ে আমরা এই প্রতিবাদ জানায়ছি আবারো সেটা পূনরাবৃত্তি হয় তাহলে আমরা সমস্ত তৌহিদ জনতা আলেম উলামা জনগনকে নিয়ে আমরা রহিম বিডিয়ারের বাড়ীর দিকে লং মার্চ ঘোষণা করবো।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আর রাসেল মিলন মেলার প্রতিষ্ঠাতা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক আহবায়ক, (অবসরপ্রাপ্ত) বিডিআর, আব্দুর রহিম বলেন, বিগত ৩০ বছর ধরে রাসেল মিলন মেলা উৎযাপিত হতো। সেই উৎযাপিত অনুষ্ঠান চরমোনাই এর গ্রুপ কোরবান ফকীর বাদী হয়ে থানায় লিখিত দিয়েছে ওয়াজ দেওয়ার জন্য সেজন্য রাসেল মিলন মেলা বন্ধ করে দিয়েছে। এবং এখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আজ মৌলবাদী এই চরমোনাই এর কারণে গান বন্ধ হয়ে গেলো। আমার প্রায় এক লক্ষ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। আমার এ টাকার ক্ষতি দেবে কে। এ সন্ত্রাসের হাত থেকে যেনো বাংলাদেশ মুক্ত পায় সেই দোয়া চাই।



















