ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খোমেনির ‘বেলায়েত-এ-ফকিহ’ থেকে খামেনেই-উত্তর ইরান: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কারা নুরুল ইসলাম মণির চিফ হুইপের নতুন দায়িত্বে দুই দফায় আনন্দ মিছিল নুরুল ইসলাম মণি সংসদের চিফ হুইপ মনোনীত হওয়ায় বেতাগীতে আনন্দ মিছিল নামের বিভ্রাটে জেল খাটতে হলো নিরপরাধ গৃহবধূকে: পুলিশের ওপর আদালতের অসন্তোষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী মামুনের দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ পাথরঘাটার মানুষ আশুলিয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট জনদুর্ভোগ কমাতে শ্রমিক দলের উদ্যোগে ফুটপাত উচ্ছেদ ‘ঝোপখালী পাখির চর’ হতে পারে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট ভান্ডারিয়ায় বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার এক বেতাগীতে খেজুর ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মারামারি, একজন আহত রাজাপুরে ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক দুই

খোমেনির ‘বেলায়েত-এ-ফকিহ’ থেকে খামেনেই-উত্তর ইরান: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
Jbangla.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান আবারও এক সম্ভাব্য রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রুহুল্লাহ খোমেনি যে ‘বেলায়েত-এ-ফকিহ’ বা ধর্মতাত্ত্বিক অভিভাবকত্বের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাষ্ট্রকাঠামোর মূল ভিত্তি। তবে বর্তমান সুপ্রিম লিডার আলী খামেনেই-এর দীর্ঘ শাসনের পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বিপ্লব থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন সংবিধানে ‘সুপ্রিম লিডার’ পদ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা একজন ধর্মীয় আলেমের হাতে ন্যস্ত করা হয়। তিনি সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ধারণ করেন।

এই কাঠামোর আওতায় ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সুপ্রিম লিডার নির্বাচন ও অপসারণের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি গার্ডিয়ান কাউন্সিল আইন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করে।

খামেনেই যুগ ও আইআরজিসির উত্থান

১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেন আলী খামেনেই। তাঁর আমলে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ছাড়াও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অগ্রগতি অর্জন করে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরান ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ কৌশলের মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ফিলিস্তিনের হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন জুগিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এতে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

উত্তরসূরি প্রশ্নে জটিল সমীকরণ

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি-র মৃত্যুর পর নেতৃত্ব প্রশ্নটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সুপ্রিম লিডারের পুত্র মোজতবা খামেনেইর নাম আলোচিত হলেও বংশগত শাসনের বিতর্ক বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে রক্ষণশীল আলেমদের একটি অংশ এবং আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ মহলও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে ভবিষ্যৎ সুপ্রিম লিডার নির্ধারণে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ

অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের মতো সামাজিক প্রতিবাদ বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ইরানকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেই-উত্তর ইরান কট্টর রক্ষণশীল ধারাই বজায় রাখতে পারে। তবে আইআরজিসির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইঙ্গিত দেয়—ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে সামরিক ও কৌশলগত দক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইরান এখন এমন এক পর্যায়ে অবস্থান করছে, যেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খোমেনির ‘বেলায়েত-এ-ফকিহ’ থেকে খামেনেই-উত্তর ইরান: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কারা

আপডেট সময় : ০৪:০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান আবারও এক সম্ভাব্য রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রুহুল্লাহ খোমেনি যে ‘বেলায়েত-এ-ফকিহ’ বা ধর্মতাত্ত্বিক অভিভাবকত্বের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাষ্ট্রকাঠামোর মূল ভিত্তি। তবে বর্তমান সুপ্রিম লিডার আলী খামেনেই-এর দীর্ঘ শাসনের পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বিপ্লব থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন সংবিধানে ‘সুপ্রিম লিডার’ পদ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা একজন ধর্মীয় আলেমের হাতে ন্যস্ত করা হয়। তিনি সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ধারণ করেন।

এই কাঠামোর আওতায় ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সুপ্রিম লিডার নির্বাচন ও অপসারণের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি গার্ডিয়ান কাউন্সিল আইন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করে।

খামেনেই যুগ ও আইআরজিসির উত্থান

১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেন আলী খামেনেই। তাঁর আমলে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ছাড়াও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অগ্রগতি অর্জন করে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরান ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ কৌশলের মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ফিলিস্তিনের হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন জুগিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এতে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

উত্তরসূরি প্রশ্নে জটিল সমীকরণ

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি-র মৃত্যুর পর নেতৃত্ব প্রশ্নটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সুপ্রিম লিডারের পুত্র মোজতবা খামেনেইর নাম আলোচিত হলেও বংশগত শাসনের বিতর্ক বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে রক্ষণশীল আলেমদের একটি অংশ এবং আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ মহলও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে ভবিষ্যৎ সুপ্রিম লিডার নির্ধারণে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ

অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের মতো সামাজিক প্রতিবাদ বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ইরানকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেই-উত্তর ইরান কট্টর রক্ষণশীল ধারাই বজায় রাখতে পারে। তবে আইআরজিসির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইঙ্গিত দেয়—ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে সামরিক ও কৌশলগত দক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইরান এখন এমন এক পর্যায়ে অবস্থান করছে, যেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।