ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শালিণ্য’র সভাপতি মাহফুজা খানম, ৮ম বারের মত সম্পাদক কিশোর বালা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় মির্জাগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ার্স ফ্যামিলির নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি শাওন ও সম্পাদক তারেক মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে খেলাধুলার বিকল্প নেই,মোঃ ফজলুল করিম মিঠু মিয়া স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে —কার্নিভাল উদ্বোধনে চিফ হুইপ বেতাগীতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির জন্মদিন পালিত বেতাগীতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির জন্মদিন পালিত বরগুনায় ‘সাই-ম্যাজিক কার্নিভাল’ উদ্বোধন করলেন চিফ হুইপ মনি সরকার ভাল ভাল করছে বলেই বিরোধী দল সমালোচনা করারও সুযোগ পাচ্ছে না: চীফ হুইপ

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিটমহলের মোহছেনার পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫ ১২৬ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ রফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার বাসিন্দা মোহছেনা আক্তার। প্রথমবারের মতো বিলুপ্ত ছিটমহলের কোনো বাসিন্দা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এতে সবাই আনন্দিত হলেও মেডিকেল কলেজে ভর্তির টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি।

 

জানা গেছে, মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোহছেনা আক্তার এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে ২০২২ সালে গঙ্গারহাট দাখিল মাদরাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, কাশিপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করে।

 

তার বাবা কৃষক ও মা গৃহিণী। তিন বোনের মধ্যে মোহছেনা সবার ছোট। বড় বোন মাহাবুবা মুক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া করছেন এবং মেজো বোন মাহফুজা খাতুন মিষ্টি কুড়িগ্রাম মহিলা কলেজে অনার্সে লেখাপড়া করছেন। সীমিত আয়ের এই পরিবারটি এতদিন মেয়েদের পড়াশোনার খরচ বহন করলেও মেডিকেলে পড়াশোনার বিপুল খরচ মেটানো এখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

মোহছেনার বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার মেয়ের মেডিকেলে চান্স পাওয়া আমার জন্য অনেক গর্বের। কিন্তু মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

মোহছেনা বলে, আমি ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। তবে এখন আমার পড়াশোনার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।

 

বড় বোন মাহাবুবা মুক্তা বলেন, আমার বোন মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ায় আমি আনন্দিত। আমার বাবা ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার থাকায় চাকরি করতে পারেনি। অন্যর জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আমাদেরকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।

 

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম, আশাদুল, জলিল মিয়াসহ অনেকেই বলেন, ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার মানুষ আজ গর্বিত। আমাদের মেয়ে এবার মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে। মোহছেনার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

 

কাশিপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাকী খন্দকার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রী মোহছেনা। সে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। তাকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিটমহলের মোহছেনার পরিবার

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫

মোঃ রফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার বাসিন্দা মোহছেনা আক্তার। প্রথমবারের মতো বিলুপ্ত ছিটমহলের কোনো বাসিন্দা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এতে সবাই আনন্দিত হলেও মেডিকেল কলেজে ভর্তির টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি।

 

জানা গেছে, মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোহছেনা আক্তার এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে ২০২২ সালে গঙ্গারহাট দাখিল মাদরাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, কাশিপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করে।

 

তার বাবা কৃষক ও মা গৃহিণী। তিন বোনের মধ্যে মোহছেনা সবার ছোট। বড় বোন মাহাবুবা মুক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া করছেন এবং মেজো বোন মাহফুজা খাতুন মিষ্টি কুড়িগ্রাম মহিলা কলেজে অনার্সে লেখাপড়া করছেন। সীমিত আয়ের এই পরিবারটি এতদিন মেয়েদের পড়াশোনার খরচ বহন করলেও মেডিকেলে পড়াশোনার বিপুল খরচ মেটানো এখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

মোহছেনার বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার মেয়ের মেডিকেলে চান্স পাওয়া আমার জন্য অনেক গর্বের। কিন্তু মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

মোহছেনা বলে, আমি ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। তবে এখন আমার পড়াশোনার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।

 

বড় বোন মাহাবুবা মুক্তা বলেন, আমার বোন মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ায় আমি আনন্দিত। আমার বাবা ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার থাকায় চাকরি করতে পারেনি। অন্যর জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আমাদেরকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।

 

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম, আশাদুল, জলিল মিয়াসহ অনেকেই বলেন, ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার মানুষ আজ গর্বিত। আমাদের মেয়ে এবার মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে। মোহছেনার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

 

কাশিপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাকী খন্দকার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রী মোহছেনা। সে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। তাকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় করব।