টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ১২৪ বার পড়া হয়েছে

জালাল উদ্দীন সোহাগ – উখিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজার, জুলাই ১১, ২০২৬: টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত, কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত এবং নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র সংকট। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন শেয় সোসাইটি, জাইদা বাংলাদেশ এবং Youth Peacebuilders, ActionAid Bangladesh-এর সহায়তায় জরুরি মানবিক সাড়া কার্যক্রম শুরু করেছে।
দুর্যোগের শুরু থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং অন্যান্য মানবিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, সীমিত পরিসরে খাদ্য ও নিরাপদ পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চাহিদা নিরূপণে কাজ করছেন।
বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও রান্না করা, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
SHAY-এর প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন,
“ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে আমরা দেখেছি, মানুষ আমাদের তাদের পানিতে ডুবে থাকা ঘর দেখাচ্ছেন। প্রায় সবাই একই অনুরোধ করেছেন, ‘আমাদের নলকূপ ডুবে গেছে। আমাদের নিরাপদ খাওয়ার পানি দিন।’ এই বাস্তবতা আমাদের আরও দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি এবং মানবিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।”
জরুরি সাড়া কার্যক্রমের প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ১,৯০০ জন মানুষের কাছে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ORS) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য ডিগনিটি কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবেন, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
জাইদা বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক, শাহরুখ করিম বলেন:
“দুর্যোগের সময় দ্রুত, সমন্বিত এবং মানবিক সাড়া নিশ্চিত করতে যুবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুধু জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি দ্রুত ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।









