ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি জমিতে বিএনপি নেতার অবৈধ ঘর গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বরগুনা’র বেতাগী’তে সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত বরগুনা জেলায় শীর্ষে বেতাগী মডেল স.প্রা.বি  টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সচেতন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বেতাগীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

সাঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণে মামলা, পলাতক নৈশপ্রহরী

মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী(১২) কে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরেজমিন ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বঁাশঝাড়ে বিদ্যালয় ছুটির পর বিকাল ৪টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতেই সাঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ও অফিস সহকারী মো. আরিফ (৪০)-কে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় ভাই বলেন, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. আরিফ মিয়া তার বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। আমার বোন এখন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা বলেন, ঘটনার দিন আমার মেয়ে বিদ্যালয় থেকে দেরিতে ফেরার পর দেখি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি লেগে আছে। তার ভেতর কেমন জানি ভয় কাজ করছে মনে হচ্ছিল। পরে তার হাঁটা-চলাচলে সন্দেহ হলে আমার দেবরের বউ (মেয়ের চাচি) বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমরা মেয়েকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসা করলে মেয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। পরে ওয়ার্ড মেম্বারকে বিষয়টি জানিয়ে থানায় যাই।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে যেন আমরা মামলা না করি। তারা আমার ভাতিজিকে পাগল সাজানোর চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম খান এ প্রতিবেদককে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি তাকে জানালে তিনি দ্রুত সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের নিয়ে থানায় উপস্থিত হলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিনহাজুল আবেদীন বলেন, তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ ঘটনায় অপরাধী ছাড় পাবে না।

এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলার একমাত্র আসামি মো. আরিফ পলাতক রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাঘাটা থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণে মামলা, পলাতক নৈশপ্রহরী

আপডেট সময় : ০১:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী(১২) কে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরেজমিন ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বঁাশঝাড়ে বিদ্যালয় ছুটির পর বিকাল ৪টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতেই সাঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ও অফিস সহকারী মো. আরিফ (৪০)-কে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় ভাই বলেন, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. আরিফ মিয়া তার বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। আমার বোন এখন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা বলেন, ঘটনার দিন আমার মেয়ে বিদ্যালয় থেকে দেরিতে ফেরার পর দেখি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি লেগে আছে। তার ভেতর কেমন জানি ভয় কাজ করছে মনে হচ্ছিল। পরে তার হাঁটা-চলাচলে সন্দেহ হলে আমার দেবরের বউ (মেয়ের চাচি) বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমরা মেয়েকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসা করলে মেয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। পরে ওয়ার্ড মেম্বারকে বিষয়টি জানিয়ে থানায় যাই।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে যেন আমরা মামলা না করি। তারা আমার ভাতিজিকে পাগল সাজানোর চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম খান এ প্রতিবেদককে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি তাকে জানালে তিনি দ্রুত সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের নিয়ে থানায় উপস্থিত হলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিনহাজুল আবেদীন বলেন, তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ ঘটনায় অপরাধী ছাড় পাবে না।

এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলার একমাত্র আসামি মো. আরিফ পলাতক রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাঘাটা থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি।