ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতাগীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল কাঠালিয়ায় রাস্তার কাজে অনিয়ম, সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি স্বাধীনতার ৫৫ বছর – ঝালকাঠিতে ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেডের বর্ণিল আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী ভান্ডারিয়া আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমিতে প্রবেশের অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাইলেন ফিরোজ আলম রাজাপুরে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক অভিযান ঝালকাঠিতে মাহে রমজান উপলক্ষে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন চট্টগ্রাম ১১নং দক্ষিণ কাট্টলীতে ৩৬ মসজিদের ইমামদের সম্মাননা অনুদান ঝালকাঠিতে নৌ কর্মকর্তা’র প্রাইভেটকার খাদে পড়ে দেড় বছরের শিশু নিহত টুঙ্গিপাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত, আহত ২

“মুরগি ও সবজির বাজারে দামের আগুন”

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫ ৯৫ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও লেগেছে আগুন। রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজি ও মুরগির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া সবজি এখন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

সবজির বর্তমান বাজারদর:

 

করলা: ৭০-৮০ টাকা

বেগুন: ৮০-১০০ টাকা

বরবটি: ৮০ টাকা

চিচিঙ্গা: ৭০-৮০ টাকা

কচুর লতি: ৮০-৯০ টাকা

কাঁকরোল: ১০০-১৩০ টাকা

ঢেঁড়স: ৫০-৭০ টাকা

ঝিঙে: ৭০-৮০ টাকা

শসা: ৭০-৮০ টাকা

পটোল: ৭০-৮০ টাকা

সজনে ডাটা: ১২০-১৪০ টাকা

টমেটো: ৩০-৪০ টাকা

পেঁপে: ৭০ টাকা

গাজর: ৪০ টাকা

 

পাশাপাশি পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। আদা ও রসুনের বাজারেও একই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

মুরগির বাজারেও চড়া দাম:

ব্রয়লার: ১৭০-১৮০ টাকা (আগে ১৫০-১৬০ টাকা)

সোনালী: ৩২০ টাকা

কক: ৩৩০ টাকা

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফিডের দাম, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দাম বেড়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, এক শ্রেণির মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে।

 

গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থির রয়েছে:

গরুর মাংস: ৭৫০-৮০০ টাকা

খাসির মাংস: ১২০০ টাকা

ছাগলের মাংস: ১১০০ টাকা

মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল:

রুই: ৩৫০-৪২০ টাকা

কাতল: ৩৮০-৪৫০ টাকা

চাষের শিং: ৫৫০ টাকা

মাগুর: ৫০০ টাকা

কৈ: ২০০-২৫০ টাকা

কোরাল: ৭৫০ টাকা

পাঙাশ: ১৮০-২৩৫ টাকা

তেলাপিয়া: ১৫০-২২০ টাকা

বাজার করতে আসা খিলক্ষেতের বাসিন্দা আমিরুল বলেন, ‘সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে। দিন দিন সবকিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এখন ডাল-ভাত খেয়েই চলতে হবে।’

একজন চাকরিজীবী দিনেশ জানান, ‘মাসের শুরুতেই বাজার করতে গিয়ে পুরো বেতন শেষ হয়ে যায়। সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানুষ বাজারে যেতেই পারবে না।’

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাব ও সরবরাহ চেইনের দুর্বলতা এই সংকটের মূল কারণ। তাদের মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:

টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো

বাজার মনিটরিং জোরদার করা

কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ

মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

সবজির মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে সার্বিক জীবনযাত্রায়। তাই বাজার ব্যবস্থাপনায় অবহেলা না করে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

“মুরগি ও সবজির বাজারে দামের আগুন”

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও লেগেছে আগুন। রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজি ও মুরগির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া সবজি এখন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

সবজির বর্তমান বাজারদর:

 

করলা: ৭০-৮০ টাকা

বেগুন: ৮০-১০০ টাকা

বরবটি: ৮০ টাকা

চিচিঙ্গা: ৭০-৮০ টাকা

কচুর লতি: ৮০-৯০ টাকা

কাঁকরোল: ১০০-১৩০ টাকা

ঢেঁড়স: ৫০-৭০ টাকা

ঝিঙে: ৭০-৮০ টাকা

শসা: ৭০-৮০ টাকা

পটোল: ৭০-৮০ টাকা

সজনে ডাটা: ১২০-১৪০ টাকা

টমেটো: ৩০-৪০ টাকা

পেঁপে: ৭০ টাকা

গাজর: ৪০ টাকা

 

পাশাপাশি পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। আদা ও রসুনের বাজারেও একই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

মুরগির বাজারেও চড়া দাম:

ব্রয়লার: ১৭০-১৮০ টাকা (আগে ১৫০-১৬০ টাকা)

সোনালী: ৩২০ টাকা

কক: ৩৩০ টাকা

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফিডের দাম, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দাম বেড়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, এক শ্রেণির মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে।

 

গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থির রয়েছে:

গরুর মাংস: ৭৫০-৮০০ টাকা

খাসির মাংস: ১২০০ টাকা

ছাগলের মাংস: ১১০০ টাকা

মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল:

রুই: ৩৫০-৪২০ টাকা

কাতল: ৩৮০-৪৫০ টাকা

চাষের শিং: ৫৫০ টাকা

মাগুর: ৫০০ টাকা

কৈ: ২০০-২৫০ টাকা

কোরাল: ৭৫০ টাকা

পাঙাশ: ১৮০-২৩৫ টাকা

তেলাপিয়া: ১৫০-২২০ টাকা

বাজার করতে আসা খিলক্ষেতের বাসিন্দা আমিরুল বলেন, ‘সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে। দিন দিন সবকিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এখন ডাল-ভাত খেয়েই চলতে হবে।’

একজন চাকরিজীবী দিনেশ জানান, ‘মাসের শুরুতেই বাজার করতে গিয়ে পুরো বেতন শেষ হয়ে যায়। সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানুষ বাজারে যেতেই পারবে না।’

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাব ও সরবরাহ চেইনের দুর্বলতা এই সংকটের মূল কারণ। তাদের মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:

টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো

বাজার মনিটরিং জোরদার করা

কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ

মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

সবজির মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে সার্বিক জীবনযাত্রায়। তাই বাজার ব্যবস্থাপনায় অবহেলা না করে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।