ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আধুনিক ব্যাংকিং ক্যাশলেস সেবার উদ্বোধন তথ্য চাওয়ায় ভাণ্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা শিক্ষা বঞ্চিত বেদে শিশুদের স্বপ্ন দেখালো শালিণ্য’র স্যাটেলাইট স্কুল আওরাবুনিয়া বাজার কমিটির উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও কক্সবাজারের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ২৪,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

ঝালকাঠি রাজাপুরে অফিস আদেশ পেয়েও নিজ কর্মস্থলে ফিরছেন না সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা

মোঃ মাছুম বিল্লাহ ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ ২৯৭ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুসারে ডেপুটেশন বা অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর থাকা সত্যেও ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের ২৩ নং মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্তিতে রয়েছেন ৩০নং রাজাপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১১ আগষ্ট উক্ত শিক্ষিকার প্রদত্ত সংযুক্তি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একটি অফিস আদেশ জারি করলেও চিঠিটি আমলে না নিয়ে ফারজানা এখনো ৩০নং রাজাপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২৩ নং মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা নগরীতে গমন করার পর ফারজানা ডেপুটেশনে সদরের ৩০নং রাজাপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তার যোগ সাজসে কাগজ পত্র জমা দেন। আবেদনে প্রধান শিক্ষিকা বাধ সাধতে পারেন বিধায় তার অনুপস্থিতিতে ফারজানা এই কাজটি করেছেন। এরপর সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে এখতিয়ার বহির্ভূত ফারজানার সংযুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফারজানার কয়েকজন সহকর্মী জানান, শিক্ষক সল্পতার কারনে অনেক সময় অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সংযুক্তিতে আনা হয়। তবে যে বিদ্যালয়ে ফারজানাকে সংযুক্তি দেয়া হয়েছে সেখানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪ জন শিক্ষক বেশী রয়েছে। এই মুনিবুর রহমান স্যার’কে ফারজানা কিভাবে ম্যানেজ করেছেন কিংবা কোন স্বার্থে মুনিব স্যার ফারজানার জন্য এমন কাজ করেছেন তিনিই ভাল বলতে পারবেন। কেননা সংযুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র মহাপরিচালক কর্মকর্তার কার্যালয়। সেখানে মুনিবুর রহমান ফারজানাকে অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তির জন্য নিজ স্বাক্ষরিত ০২ জুলাই ২০২৩ তারিখে মনগড়া একটি অফিস আদেশ বানিয়েছেন যা ছিল সম্পূর্ন অবৈধ। তারা আরও জানান, এই অবৈধ সংযুক্তি বৈধ করতে ফারজানা ২৪ সালের ১৬ মে মহাপরিচালক থেকে যে কোন ভাবে একই বিদ্যালয়ে সংযুক্তির জন্য নতুন করে আর একটি অফিস আদেশ করান। বিধি অনুযায়ী সেই চিঠির বৈধতা ছিল এক বছর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫ জানুয়ারি ২০২৫ এর পরিপত্রে সংযুক্তি এক বছরের বেশী হলে শিক্ষককে মূল বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ফারজানার সংযুক্তির মেয়াদ গত ১৫ মে এক বছর পূর্ণ হলে পরবর্তীতে নিজ বিদ্যালয়ে যোগদান করার কথা। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। এরপর জেলা শিক্ষা অফিস ১১ আগস্ট এক অফিস আদেশে ফারজানাকে মূল বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য নির্দেশ দিলে তিনি এখনও সংযুক্তি বিদ্যালয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা জানায়, আমাকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ (ডিজি স্যার) এখানে মৌখিক ভাবে থাকতে বলছে যার সুবাদে আমি এখানে থেকে ক্লাস নিচ্ছি।

রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন বলেন,অফিস আদেশ পেয়ে তা আমি ফারজানার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। পরবর্তীতে উপরের মৌখিক আদেশে আমি আবার ফারজানাকে সংযুক্তি বিদ্যালয়ে থাকতে বলেছি। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঝালকাঠি রাজাপুরে অফিস আদেশ পেয়েও নিজ কর্মস্থলে ফিরছেন না সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা

আপডেট সময় : ০১:০২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুসারে ডেপুটেশন বা অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর থাকা সত্যেও ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের ২৩ নং মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্তিতে রয়েছেন ৩০নং রাজাপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১১ আগষ্ট উক্ত শিক্ষিকার প্রদত্ত সংযুক্তি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একটি অফিস আদেশ জারি করলেও চিঠিটি আমলে না নিয়ে ফারজানা এখনো ৩০নং রাজাপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২৩ নং মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা নগরীতে গমন করার পর ফারজানা ডেপুটেশনে সদরের ৩০নং রাজাপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তার যোগ সাজসে কাগজ পত্র জমা দেন। আবেদনে প্রধান শিক্ষিকা বাধ সাধতে পারেন বিধায় তার অনুপস্থিতিতে ফারজানা এই কাজটি করেছেন। এরপর সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে এখতিয়ার বহির্ভূত ফারজানার সংযুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফারজানার কয়েকজন সহকর্মী জানান, শিক্ষক সল্পতার কারনে অনেক সময় অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সংযুক্তিতে আনা হয়। তবে যে বিদ্যালয়ে ফারজানাকে সংযুক্তি দেয়া হয়েছে সেখানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪ জন শিক্ষক বেশী রয়েছে। এই মুনিবুর রহমান স্যার’কে ফারজানা কিভাবে ম্যানেজ করেছেন কিংবা কোন স্বার্থে মুনিব স্যার ফারজানার জন্য এমন কাজ করেছেন তিনিই ভাল বলতে পারবেন। কেননা সংযুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র মহাপরিচালক কর্মকর্তার কার্যালয়। সেখানে মুনিবুর রহমান ফারজানাকে অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তির জন্য নিজ স্বাক্ষরিত ০২ জুলাই ২০২৩ তারিখে মনগড়া একটি অফিস আদেশ বানিয়েছেন যা ছিল সম্পূর্ন অবৈধ। তারা আরও জানান, এই অবৈধ সংযুক্তি বৈধ করতে ফারজানা ২৪ সালের ১৬ মে মহাপরিচালক থেকে যে কোন ভাবে একই বিদ্যালয়ে সংযুক্তির জন্য নতুন করে আর একটি অফিস আদেশ করান। বিধি অনুযায়ী সেই চিঠির বৈধতা ছিল এক বছর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫ জানুয়ারি ২০২৫ এর পরিপত্রে সংযুক্তি এক বছরের বেশী হলে শিক্ষককে মূল বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ফারজানার সংযুক্তির মেয়াদ গত ১৫ মে এক বছর পূর্ণ হলে পরবর্তীতে নিজ বিদ্যালয়ে যোগদান করার কথা। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। এরপর জেলা শিক্ষা অফিস ১১ আগস্ট এক অফিস আদেশে ফারজানাকে মূল বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য নির্দেশ দিলে তিনি এখনও সংযুক্তি বিদ্যালয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা জানায়, আমাকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ (ডিজি স্যার) এখানে মৌখিক ভাবে থাকতে বলছে যার সুবাদে আমি এখানে থেকে ক্লাস নিচ্ছি।

রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন বলেন,অফিস আদেশ পেয়ে তা আমি ফারজানার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। পরবর্তীতে উপরের মৌখিক আদেশে আমি আবার ফারজানাকে সংযুক্তি বিদ্যালয়ে থাকতে বলেছি। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে।