ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরগুনা’র বেতাগী’তে সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত বরগুনা জেলায় শীর্ষে বেতাগী মডেল স.প্রা.বি  টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সচেতন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বেতাগীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আধুনিক ব্যাংকিং ক্যাশলেস সেবার উদ্বোধন

তথ্য চাওয়ায় ভাণ্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে এ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ায় দুই সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত ও তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে স্টেশন কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা নয়নের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৯ ফায়ার স্টেশন কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

লাঞ্ছনার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক মতবাদের স্টাফ রিপোর্টার শঙ্কর জীৎ সমদ্দার এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও বরিশালের দৈনিক আজকের পরিবর্তনের সংবাদকর্মী মো. তরিকুল ইসলাম শামীম।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তারা ফায়ার এ্যাম্বুলেন্সের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানতে স্টেশনে যান। ডিউটিরত সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্টেশন কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা নয়ন তাদের সাথে কথা বলতে আসেন। এ সময় কার্যালয়ের এ্যাম্বুলেন্সটি কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। চার মাস ধরে কর্মরত থাকার পরও তথ্য না জানায় সাংবাদিকরা বিস্ময় প্রকাশ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

 

এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের নিকট ‘কোড নম্বর’ ও ‘লাইসেন্স’ দেখতে চান। সাংবাদিকরা তাদের পরিচয়পত্র (প্রেস কার্ড) দেখালে তিনি তা গ্রহণ না করে তাদের ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলে গালিগালাজ করেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি স্টেশনের ইমারজেন্সি ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দেন এবং অন্য এক সদস্যকে এসিল্যান্ড ও মন্ত্রীর পিএস-কে ফোন দিতে বলেন। এ সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি এবং অন্যজন তা ভিডিও করতে গেলে তার দিকেও তেড়ে আসেন।

 

খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় সাংবাদিকরা পুলিশের কাছে প্রশ্ন রাখেন, “সরকারি দপ্তরে তথ্য চাওয়া কি অপরাধ? তথ্য না দিলে তিনি সরাসরি না বলতে পারতেন, কিন্তু সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অধিকার তিনি কোথায় পেলেন?” পরবর্তীতে পুলিশ সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র যাচাই করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে।

 

অভিযোগ উঠেছে, তথ্য দিতে গড়িমসি এবং সাংবাদিকদের সাথে এমন মারমুখী আচরণের পেছনে ফায়ার এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কোনো অনিয়ম লুকানোর চেষ্টা করা হতে পারে। স্টেশন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, একটি এ্যাম্বুলেন্স গৌরনদীতে এবং অন্যটি পিরোজপুরে সংস্কারাধীন থাকলেও সাংবাদিকদের সাথে তার উগ্র আচরণ পুরো বিষয়টিকেই রহস্যজনক করে তুলেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তথ্য চাওয়ায় ভাণ্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে এ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ায় দুই সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত ও তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে স্টেশন কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা নয়নের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৯ ফায়ার স্টেশন কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

লাঞ্ছনার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক মতবাদের স্টাফ রিপোর্টার শঙ্কর জীৎ সমদ্দার এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও বরিশালের দৈনিক আজকের পরিবর্তনের সংবাদকর্মী মো. তরিকুল ইসলাম শামীম।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তারা ফায়ার এ্যাম্বুলেন্সের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানতে স্টেশনে যান। ডিউটিরত সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্টেশন কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা নয়ন তাদের সাথে কথা বলতে আসেন। এ সময় কার্যালয়ের এ্যাম্বুলেন্সটি কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। চার মাস ধরে কর্মরত থাকার পরও তথ্য না জানায় সাংবাদিকরা বিস্ময় প্রকাশ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

 

এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের নিকট ‘কোড নম্বর’ ও ‘লাইসেন্স’ দেখতে চান। সাংবাদিকরা তাদের পরিচয়পত্র (প্রেস কার্ড) দেখালে তিনি তা গ্রহণ না করে তাদের ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলে গালিগালাজ করেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি স্টেশনের ইমারজেন্সি ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দেন এবং অন্য এক সদস্যকে এসিল্যান্ড ও মন্ত্রীর পিএস-কে ফোন দিতে বলেন। এ সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি এবং অন্যজন তা ভিডিও করতে গেলে তার দিকেও তেড়ে আসেন।

 

খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় সাংবাদিকরা পুলিশের কাছে প্রশ্ন রাখেন, “সরকারি দপ্তরে তথ্য চাওয়া কি অপরাধ? তথ্য না দিলে তিনি সরাসরি না বলতে পারতেন, কিন্তু সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অধিকার তিনি কোথায় পেলেন?” পরবর্তীতে পুলিশ সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র যাচাই করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে।

 

অভিযোগ উঠেছে, তথ্য দিতে গড়িমসি এবং সাংবাদিকদের সাথে এমন মারমুখী আচরণের পেছনে ফায়ার এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কোনো অনিয়ম লুকানোর চেষ্টা করা হতে পারে। স্টেশন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, একটি এ্যাম্বুলেন্স গৌরনদীতে এবং অন্যটি পিরোজপুরে সংস্কারাধীন থাকলেও সাংবাদিকদের সাথে তার উগ্র আচরণ পুরো বিষয়টিকেই রহস্যজনক করে তুলেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।