ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আধুনিক ব্যাংকিং ক্যাশলেস সেবার উদ্বোধন তথ্য চাওয়ায় ভাণ্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা শিক্ষা বঞ্চিত বেদে শিশুদের স্বপ্ন দেখালো শালিণ্য’র স্যাটেলাইট স্কুল আওরাবুনিয়া বাজার কমিটির উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও

ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়েকে বাঁচাতে পঙ্গু বাবার আর্তনাদ

স্টাপ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়ন এর কুকড়াহাট গ্রামে এক হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয় সামনে উঠে এসেছে। পঙ্গু বাবার কাঁধে ক্যান্সার আক্রান্ত সাত বছরের শিশু কন্যা খাদিজার চিকিৎসার ভার এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

২০০৫ সালে ঢাকায় কনস্ট্রাকশন কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন আনোয়ার ইসলাম। ওই দুর্ঘটনার পর তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বর্তমানে চলাফেরা করেন একটি জরাজীর্ণ জোড়াতালি দেওয়া হুইলচেয়ারে। সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনের পথ.

বড় ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের সহোযোগিতায় । এর মধ্যেই হঠাৎ এক নতুন দুর্যোগ নেমে আসে—তার ছোট শিশু মেয়ে খাদিজা আক্তার (৭) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে খেলতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গেলে খাদিজার ডান পায়ে ব্যথা অনুভব হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । সেখানে বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান খাদিজা অস্টিওসারকোমা নামক হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা দ্রুত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু চিকিৎসার খরচ প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকা হওয়ায় বিপন্ন পরিবারটির পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। খাদিজার ডান পা দিন দিন ফুলে যাচ্ছে এবং জটিল রূপ নিচ্ছে।

খাদিজার মা বলেন, ডাক্তারের কাছে যাই, পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে সবাই ফেরত পাঠায়। টাকার অভাবে মেয়ের ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তার মুখের দিকে তাকাতে পারি না, বুক ফেটে যায় কান্না আসে।

স্থানীয় শিক্ষক বাবু মিয়া বলেন, আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি, কিন্তু সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি।

ভরতখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরনবী বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে মেয়েটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়েকে বাঁচাতে পঙ্গু বাবার আর্তনাদ

আপডেট সময় : ০৮:৪২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়ন এর কুকড়াহাট গ্রামে এক হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয় সামনে উঠে এসেছে। পঙ্গু বাবার কাঁধে ক্যান্সার আক্রান্ত সাত বছরের শিশু কন্যা খাদিজার চিকিৎসার ভার এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

২০০৫ সালে ঢাকায় কনস্ট্রাকশন কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন আনোয়ার ইসলাম। ওই দুর্ঘটনার পর তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বর্তমানে চলাফেরা করেন একটি জরাজীর্ণ জোড়াতালি দেওয়া হুইলচেয়ারে। সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনের পথ.

বড় ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের সহোযোগিতায় । এর মধ্যেই হঠাৎ এক নতুন দুর্যোগ নেমে আসে—তার ছোট শিশু মেয়ে খাদিজা আক্তার (৭) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে খেলতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গেলে খাদিজার ডান পায়ে ব্যথা অনুভব হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । সেখানে বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান খাদিজা অস্টিওসারকোমা নামক হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা দ্রুত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু চিকিৎসার খরচ প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকা হওয়ায় বিপন্ন পরিবারটির পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। খাদিজার ডান পা দিন দিন ফুলে যাচ্ছে এবং জটিল রূপ নিচ্ছে।

খাদিজার মা বলেন, ডাক্তারের কাছে যাই, পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে সবাই ফেরত পাঠায়। টাকার অভাবে মেয়ের ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তার মুখের দিকে তাকাতে পারি না, বুক ফেটে যায় কান্না আসে।

স্থানীয় শিক্ষক বাবু মিয়া বলেন, আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি, কিন্তু সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি।

ভরতখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরনবী বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে মেয়েটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।