ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর বড় পারুলিয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশ – যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের বিশাল গণমিছিল: দিঘলিয়ায় আজিজুল বারী হেলালের নির্বাচনী প্রচারণা সম্পন্ন বরগুনার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান নির্বাচনি শেষ জনসভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী কাজে সারাদেশে নারী হেনস্তার প্রতিবাদে রামপালে বিক্ষোভ মিছিল সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের বিএনপিতে ঠাঁই হবে না: নুরুল ইসলাম মনি বিএনপি নির্বাচিত হলে দিল্লির থেকেও বরগুনা আওয়ামী লীগ ভালো থাকবেন রাজাপুর–কাঠালিয়া আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো.লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে আন্দোলন চলবে: বোন মাসুমা হাদির হুঁশিয়ারি খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইশতেহার, উন্নয়নের নতুন প্রতিশ্রুতি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা দূর্নীতির অভিযোগ

হাদী চকদার  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫ ১৭১২ বার পড়া হয়েছে
Jbangla.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দিলিপ ফকির ও সচিব শেখ ফজলুল করিম সবুর এর বিরুদ্ধে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ নিকট থেকে প্রাপ্ত হোল্ডিং ট্যাক্সের ৪৬ লাখ টাকা থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

 

জানা যায়, যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে (২০২২-২৩, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫) তিন অর্থবছরের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদ পেয়েছে মোট ৪৬ লাখ টাকা। এ অর্থের বড় অংশ ভুয়া প্রকল্পের নামে তুলে নেয়া হয়েছে। এমনকি এসব অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকের প্রতিবেদন প্রকাশ ঠেকানোর অপচেষ্টাও করেন অভিযুক্তরা।

 

সচিব সবুরের দেয়া ভুয়া প্রকল্পের ছায়া হিসাব অনুযায়ী নিম্নলিখিত খাতে ৩০ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে: ১০ জন মেম্বারদের সম্মানী ভাতা: ১০ লাখ ১১ হাজার টাকা, রাস্তা সংস্কার (মাটির কাজ) প্রকল্প-১: ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, নলকূপ স্থাপন: ২ লাখ টাকা, সেলাই মেশিন বিতরণ: ২ লাখ টাকা, রাস্তা সংস্কার (মাটির কাজ) প্রকল্প-২: ১৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২ কোনোটিরই বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোন প্রমাণ মেলেনি। প্রকল্প-১ এর বরাদ্দ দেয়া অর্থ দিয়ে রাস্তা সংস্কারের পরিবর্তে পরিষদের হিসাব সহকারীকে ৫০ হাজার টাকা, আয়া কর্মীকে ২০ হাজার এবং গ্রাম পুলিশদের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে “সম্মানী” হিসেবে। যা বিধি বহির্ভূত কাজ অনেকের দাবী।

 

আর প্রকল্প-২ এ দেখানো ১৪ লাখ টাকা সম্পর্কে সচিব দাবি করেন, “এই টাকা উপরের দপ্তরে যোগাযোগ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতেই খরচ করা হয়েছে।” তবে এর কোনো লিখিত বা নিরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

 

এছাড়াও সাংবাদিকের সংগ্রহে থাকা ১টি অডিওতে শোনা যায়, অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিব অবশিষ্ট ট্যাক্সের ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করতে নতুন কিছু প্রকল্প সাজাচ্ছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে: দুটি মাটির রাস্তার কাজ, ইউনিয়ন পরিষদের মসজিদ সংস্কার, পরিষদের পুরাতন ও নতুন ভবন পুনঃসংস্কার, উদ্যোক্তার ল্যাপটপ-প্রিন্টার-ফটোকপি মেশিন ক্রয় ইত্যাদি।

 

তবে এসব প্রকল্পের কোনোটিরই নেই কোনো সরকারি অনুমোদন বা ইউনিয়ন পরিষদ সভার সিদ্ধান্ত।

 

একাধিক ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর অনেকের ভাষ্যমতে, “প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই দুর্নীতি। এই ইউনিয়নে যমুনা সেতুর কাছ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা আসে, অথচ রাস্তাঘাট গুলো অচল অবস্থায় নানা সমস্যায় জর্জরিত, জনসেবা নেই বললেই চলে।” তারা প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় মোছাঃ শিরিনা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকার রাস্তার কাজ আরো আগে করার কথা ছিল, তবে হয়নি। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়, এতে আমাদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। কেউ দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলে আমাদের অনেক উপকার হবে।”

 

স্থানীয় স্বপন মিয়া বলেন, “যমুনা সেতুর ট্যাক্সের টাকা এলাকার উন্নয়নে খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু এসব প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে আছে। এলাকাবাসী কিছুই পাচ্ছে না।” তাছাড়া রাস্তা-ঘাটেরও বেহাল দশা!

 

ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য মোন্নাফ বলেন, “ ট্যাক্সের টাকা ও প্রকল্প গুলোর বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। পরিষদে কোনো সভা হয়নি। টাকাগুলা কোথায় খরচ হচ্ছে, সেটা বোঝারও উপায় নেই, সব হচ্ছে গোপনে। প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের মনগড়া ভাবেই চলছে”

 

আরেকজন সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২টি মাটির রাস্তার কাজ হয়েছে তালিকায় দেখলাম, অথচ আমি এর কিছুই জানি না। সেলাই মেশিন ও টিউবওয়েলের ২টি প্রকল্প দিয়েছেন সেটি এবং ট্যাক্সের ৩০ লাখ টাকা কোথায় কোন প্রকল্প দেখিয়ে খরচ করেছেন আমরা তাও জানি না। সবই জানেন প্যানেল চেয়ারম্যান, বলা চলে ইউনিয়ন পরিষদ চলছেই তার একক সিদ্ধান্তে।

 

ঘটনায় অভিযুক্ত সচিব সবুর খান মুঠোফোনে বলেন, কিছু টাকার হিসেব এদিক-সেদিক হইছে, কারণ ট্যাক্সের টাকা তুলতে উপর মহলেই অনেক খরচ হয়েছে। তাছাড়া ১০ জন মেম্বারদের সম্মানী ভাতা, হিসাব সহকারী, গ্রাম পুলিশ ও আয়ার সম্মানী ভাতা, নলকুপ ও সেলাই মেশিন প্রকল্প, মাটির রাস্তা প্রকল্প সব মিলিয়ে ট্যাক্সের টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া সংবাদ প্রকাশ ঠেকানোর অপচেষ্টাও করেন তিনি।

 

অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান দিলিপ বলেন, আমি স্বপন ফকিরের ভাই, ইউনিয়নের মানুষের সেবা করাই আমার ধর্ম। ট্যাক্সের সব টাকা বৈধ ভাবে খরচ করা হয়েছে। এমন কোন কাজ করবো না যে আমার মানের ক্ষতি হয়, সমস্যা নেই। দেখা কইরেন সাক্ষাতে বিস্তারিত কথা বলবো।

 

উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিনজানুর রহমান বলেন, নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতি, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ এবং সংবাদ প্রকাশ দমনের অপচেষ্টা— সবকিছু মিলিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে

 

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু রায়হান বলেন, “যমুনা সেতু ট্যাক্সের টাকা থেকে যদি ইউনিয়ন পরিষদ কোন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে এবং সরেজমিনে যদি আমরা সেটা না পাই বা এটা যদি কোন অস্তিত্ব না থাকে। এ ব্যাপারে যদি আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে আইনগত ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা দূর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৫২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দিলিপ ফকির ও সচিব শেখ ফজলুল করিম সবুর এর বিরুদ্ধে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ নিকট থেকে প্রাপ্ত হোল্ডিং ট্যাক্সের ৪৬ লাখ টাকা থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

 

জানা যায়, যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে (২০২২-২৩, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫) তিন অর্থবছরের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদ পেয়েছে মোট ৪৬ লাখ টাকা। এ অর্থের বড় অংশ ভুয়া প্রকল্পের নামে তুলে নেয়া হয়েছে। এমনকি এসব অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকের প্রতিবেদন প্রকাশ ঠেকানোর অপচেষ্টাও করেন অভিযুক্তরা।

 

সচিব সবুরের দেয়া ভুয়া প্রকল্পের ছায়া হিসাব অনুযায়ী নিম্নলিখিত খাতে ৩০ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে: ১০ জন মেম্বারদের সম্মানী ভাতা: ১০ লাখ ১১ হাজার টাকা, রাস্তা সংস্কার (মাটির কাজ) প্রকল্প-১: ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, নলকূপ স্থাপন: ২ লাখ টাকা, সেলাই মেশিন বিতরণ: ২ লাখ টাকা, রাস্তা সংস্কার (মাটির কাজ) প্রকল্প-২: ১৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২ কোনোটিরই বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোন প্রমাণ মেলেনি। প্রকল্প-১ এর বরাদ্দ দেয়া অর্থ দিয়ে রাস্তা সংস্কারের পরিবর্তে পরিষদের হিসাব সহকারীকে ৫০ হাজার টাকা, আয়া কর্মীকে ২০ হাজার এবং গ্রাম পুলিশদের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে “সম্মানী” হিসেবে। যা বিধি বহির্ভূত কাজ অনেকের দাবী।

 

আর প্রকল্প-২ এ দেখানো ১৪ লাখ টাকা সম্পর্কে সচিব দাবি করেন, “এই টাকা উপরের দপ্তরে যোগাযোগ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতেই খরচ করা হয়েছে।” তবে এর কোনো লিখিত বা নিরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

 

এছাড়াও সাংবাদিকের সংগ্রহে থাকা ১টি অডিওতে শোনা যায়, অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিব অবশিষ্ট ট্যাক্সের ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করতে নতুন কিছু প্রকল্প সাজাচ্ছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে: দুটি মাটির রাস্তার কাজ, ইউনিয়ন পরিষদের মসজিদ সংস্কার, পরিষদের পুরাতন ও নতুন ভবন পুনঃসংস্কার, উদ্যোক্তার ল্যাপটপ-প্রিন্টার-ফটোকপি মেশিন ক্রয় ইত্যাদি।

 

তবে এসব প্রকল্পের কোনোটিরই নেই কোনো সরকারি অনুমোদন বা ইউনিয়ন পরিষদ সভার সিদ্ধান্ত।

 

একাধিক ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর অনেকের ভাষ্যমতে, “প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই দুর্নীতি। এই ইউনিয়নে যমুনা সেতুর কাছ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা আসে, অথচ রাস্তাঘাট গুলো অচল অবস্থায় নানা সমস্যায় জর্জরিত, জনসেবা নেই বললেই চলে।” তারা প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় মোছাঃ শিরিনা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকার রাস্তার কাজ আরো আগে করার কথা ছিল, তবে হয়নি। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়, এতে আমাদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। কেউ দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলে আমাদের অনেক উপকার হবে।”

 

স্থানীয় স্বপন মিয়া বলেন, “যমুনা সেতুর ট্যাক্সের টাকা এলাকার উন্নয়নে খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু এসব প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে আছে। এলাকাবাসী কিছুই পাচ্ছে না।” তাছাড়া রাস্তা-ঘাটেরও বেহাল দশা!

 

ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য মোন্নাফ বলেন, “ ট্যাক্সের টাকা ও প্রকল্প গুলোর বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। পরিষদে কোনো সভা হয়নি। টাকাগুলা কোথায় খরচ হচ্ছে, সেটা বোঝারও উপায় নেই, সব হচ্ছে গোপনে। প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের মনগড়া ভাবেই চলছে”

 

আরেকজন সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২টি মাটির রাস্তার কাজ হয়েছে তালিকায় দেখলাম, অথচ আমি এর কিছুই জানি না। সেলাই মেশিন ও টিউবওয়েলের ২টি প্রকল্প দিয়েছেন সেটি এবং ট্যাক্সের ৩০ লাখ টাকা কোথায় কোন প্রকল্প দেখিয়ে খরচ করেছেন আমরা তাও জানি না। সবই জানেন প্যানেল চেয়ারম্যান, বলা চলে ইউনিয়ন পরিষদ চলছেই তার একক সিদ্ধান্তে।

 

ঘটনায় অভিযুক্ত সচিব সবুর খান মুঠোফোনে বলেন, কিছু টাকার হিসেব এদিক-সেদিক হইছে, কারণ ট্যাক্সের টাকা তুলতে উপর মহলেই অনেক খরচ হয়েছে। তাছাড়া ১০ জন মেম্বারদের সম্মানী ভাতা, হিসাব সহকারী, গ্রাম পুলিশ ও আয়ার সম্মানী ভাতা, নলকুপ ও সেলাই মেশিন প্রকল্প, মাটির রাস্তা প্রকল্প সব মিলিয়ে ট্যাক্সের টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া সংবাদ প্রকাশ ঠেকানোর অপচেষ্টাও করেন তিনি।

 

অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান দিলিপ বলেন, আমি স্বপন ফকিরের ভাই, ইউনিয়নের মানুষের সেবা করাই আমার ধর্ম। ট্যাক্সের সব টাকা বৈধ ভাবে খরচ করা হয়েছে। এমন কোন কাজ করবো না যে আমার মানের ক্ষতি হয়, সমস্যা নেই। দেখা কইরেন সাক্ষাতে বিস্তারিত কথা বলবো।

 

উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিনজানুর রহমান বলেন, নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতি, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ এবং সংবাদ প্রকাশ দমনের অপচেষ্টা— সবকিছু মিলিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে

 

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু রায়হান বলেন, “যমুনা সেতু ট্যাক্সের টাকা থেকে যদি ইউনিয়ন পরিষদ কোন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে এবং সরেজমিনে যদি আমরা সেটা না পাই বা এটা যদি কোন অস্তিত্ব না থাকে। এ ব্যাপারে যদি আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে আইনগত ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”