ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আধুনিক ব্যাংকিং ক্যাশলেস সেবার উদ্বোধন তথ্য চাওয়ায় ভাণ্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা শিক্ষা বঞ্চিত বেদে শিশুদের স্বপ্ন দেখালো শালিণ্য’র স্যাটেলাইট স্কুল আওরাবুনিয়া বাজার কমিটির উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও কক্সবাজারের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ২৪,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

খালাস পেলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫ ১১২ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি ইমদাদুল হক, বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের ফলে এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। আদালতে তার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক এবং ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে গাজী এম এইচ তামিম।

এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিল বিভাগ খালাস দিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এ মামলাকে ‘প্রহসনের রায়’ বলে দাবি করা হচ্ছিল।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অভিযোগ ছিল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে তিনি ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন। তার বিরুদ্ধে মোট নয় ধরনের অভিযোগ আনা হয়—এর মধ্যে ছয়টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এসব অপরাধের মধ্যে ছিল ১,২৫৬ জনকে হত্যা বা গণহত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং অসংখ্য ঘরবাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারের আইনজীবীরা। তারা ১১৩টি যুক্তির মাধ্যমে তার নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন। ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে ২,৩৪০ পৃষ্ঠার পরিপূরক দলিল দাখিল করা হয়। আপিল বিভাগের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর আজহার রিভিউ আবেদন করেন এবং ২০২৪ সালের ৮ মে সেই শুনানি শেষ হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মাসুদ সাঈদী, দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন এবং সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খালাস পেলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি ইমদাদুল হক, বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের ফলে এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। আদালতে তার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক এবং ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে গাজী এম এইচ তামিম।

এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিল বিভাগ খালাস দিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এ মামলাকে ‘প্রহসনের রায়’ বলে দাবি করা হচ্ছিল।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অভিযোগ ছিল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে তিনি ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন। তার বিরুদ্ধে মোট নয় ধরনের অভিযোগ আনা হয়—এর মধ্যে ছয়টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এসব অপরাধের মধ্যে ছিল ১,২৫৬ জনকে হত্যা বা গণহত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং অসংখ্য ঘরবাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারের আইনজীবীরা। তারা ১১৩টি যুক্তির মাধ্যমে তার নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন। ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে ২,৩৪০ পৃষ্ঠার পরিপূরক দলিল দাখিল করা হয়। আপিল বিভাগের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর আজহার রিভিউ আবেদন করেন এবং ২০২৪ সালের ৮ মে সেই শুনানি শেষ হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মাসুদ সাঈদী, দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন এবং সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।