ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি জমিতে বিএনপি নেতার অবৈধ ঘর গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বরগুনা’র বেতাগী’তে সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত বরগুনা জেলায় শীর্ষে বেতাগী মডেল স.প্রা.বি  টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সচেতন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বেতাগীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

কুমিল্লায় নিজেকে নবী দাবিকারী ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামী মূল্যবোধ ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় নিজেকে নবী দাবি করায় মোহাম্মদ মমিন নামে এক ব্যক্তিকে আ-ট-ক করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। সে দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ী (আলিয়াবাদ) গ্রামের মৃত রশিদ মেম্বারের পুত্র।

সূত্র মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আটক মমিন নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নিজেকে “আসমানী কিতাব ও ওহিপ্রাপ্ত নবী” হিসেবে প্রচার করে আসছিল। এতে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আরও ক্ষোভ দেখা দেয়।

এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মমিন তার মুদি দোকানে বসে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় স্পষ্টভাবে বলেন— “আমি নবুওত পেয়েছি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে বিশ্ববাসীর জন্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন।” এমন স্পর্ধিত ও ধর্মবিরোধী বক্তব্য সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

ঘটনার পরপরই দেবীদ্বার থানা পুলিশ সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আ-ট-ক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তার মানসিক সুস্থতা যাচাই এবং উদ্দেশ্য অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।

এমন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মত এমন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্বাস মতে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পর আর কোনো নবী আসবেন না এই বিশ্বাস ঈমানের মৌলিক অংশ। তাই ধর্মীয় অজ্ঞানতা ও গোঁড়ামিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাকে কেবল আইন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও দৃষ্টান্তমূলকভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কুমিল্লায় নিজেকে নবী দাবিকারী ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ

আপডেট সময় : ১০:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

ইসলামী মূল্যবোধ ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় নিজেকে নবী দাবি করায় মোহাম্মদ মমিন নামে এক ব্যক্তিকে আ-ট-ক করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। সে দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ী (আলিয়াবাদ) গ্রামের মৃত রশিদ মেম্বারের পুত্র।

সূত্র মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আটক মমিন নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নিজেকে “আসমানী কিতাব ও ওহিপ্রাপ্ত নবী” হিসেবে প্রচার করে আসছিল। এতে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আরও ক্ষোভ দেখা দেয়।

এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মমিন তার মুদি দোকানে বসে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় স্পষ্টভাবে বলেন— “আমি নবুওত পেয়েছি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে বিশ্ববাসীর জন্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন।” এমন স্পর্ধিত ও ধর্মবিরোধী বক্তব্য সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

ঘটনার পরপরই দেবীদ্বার থানা পুলিশ সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আ-ট-ক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তার মানসিক সুস্থতা যাচাই এবং উদ্দেশ্য অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।

এমন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মত এমন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্বাস মতে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পর আর কোনো নবী আসবেন না এই বিশ্বাস ঈমানের মৌলিক অংশ। তাই ধর্মীয় অজ্ঞানতা ও গোঁড়ামিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাকে কেবল আইন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও দৃষ্টান্তমূলকভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।