ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আধুনিক ব্যাংকিং ক্যাশলেস সেবার উদ্বোধন তথ্য চাওয়ায় ভাণ্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা শিক্ষা বঞ্চিত বেদে শিশুদের স্বপ্ন দেখালো শালিণ্য’র স্যাটেলাইট স্কুল আওরাবুনিয়া বাজার কমিটির উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও কক্সবাজারের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ২৪,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

ঈদের সেকাল-একাল

১৫-২০ টাকায় খাসি, ৮০-১০০ টাকায় গরু কিনে কোরবানি হতো

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুন ২০২৫ ২৮০ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শৈশবের ঈদ মানেই ছিল আনন্দ। পুরো গ্রামের মানুষ মিলে আনন্দ করতাম। ৮০ থেকে ১০০ টাকায় গরু কিনে কোরবানি করা হতো ৭ থেকে ৮ পরিবার মিলে। সে সময়ের ৮০ থেকে ১০০ টাকার গরু বর্তমানে দেড় থেকে দুই লাখে টাকায় বিক্রি হয়। গরু কোরবানি শেষে বিকেলে বাউল-ভাটিয়ালিগানের আয়োজন হতো।

জীবনের ৮০ বছর পার করে শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের ঈদগুলোর কথা মনে পড়ে। এখন থাকি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডের বাড়িতে। আছেন স্ত্রী, সন্তান ও নাতিরা। বাবা আবদুল লতিফ ধোবাউড়ার কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তানিদের গুলিতে নিহত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর পাস করে ১৯৭৪ সালে ঈশ্বরগঞ্জ কলেজে প্রভাষক হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দিই। ২০০৮ সালে অবসরে গেছি।

ষাটের দশকের কথা। তখন আমার স্কুলশিক্ষক বাবা ৩২ টাকা ৫০ পয়সা বেতন পেতেন। কোরবানির ঈদে ১৫ থেকে ২০ টাকায় খাসি কেনা হতো। সচ্ছল ৭ থেকে ৮ পরিবার মিলে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় গরু কোরবানি দেওয়া হতো। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে ঈদগাহে নামাজে যেতাম। বড়দের সালাম করলে সিকি, আধুলি সালামি পেতাম। আমাদের ছেলেবেলায় মা-চাচিরা ঈদের জন্য হাতে সেমাই বানাতেন দুই দিন আগে থেকেই। কিন্তু এখন বাজার থেকে কিনে আনা সেমাই ঝটপট রান্না হয়। হাতে তৈরি সেমাইয়ের মধ্যে যে আবেগ জড়িয়ে থাকত, তা এখনকার প্রজন্ম উপলব্ধি করতে পারবে না। সকাল সকাল কোরবানি হতো। মাংস কাটার পর প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস দিয়ে আসতাম। কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জীবন থাকলেও সচ্ছল পরিবারগুলো কোরবানি দিত।

আমাদের গ্রামের বাড়ি ছিল ভারতের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামে। ঈদের দিন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতাম। এলাকায় বাউল, ভাটিয়ালি ও ভাইওয়াগানের আসর বসত। তখন টিভি ও এখনকার মতো মুঠোফোন ছিল না। বিনোদন ছিল লোকজ গান। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সিনেমা চলত ময়মনসিংহ শহরের অলকা সিনেমা হলে। যখন হাইস্কুলে পড়ি, ধোবাউড়া থেকে ময়মনসিংহ শহরে বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে আসতাম। তখন খুবই আনন্দ হতো।

আমাদের শৈশব-কৈশোরে আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনগুলো খুব মজবুত ছিল। আমরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। কিন্তু এখন ঈদ ফিকে মনে হয়। সব আছে, কিন্তু আনন্দ নেই। আগে লোকদেখানো ছিল না, এখন মনে হয় সব লোকদেখানো।

যে আমি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কয়েকজন মিলে গরু কেনা দেখেছি, সে আমার পরিবার এবার ৯০ হাজার টাকায় গরু কিনেছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় দাম অনেক কম। সামাজিক বন্ধন যদি বাড়ত, উৎসবে মানুষের আনন্দ আরও বাড়ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদের সেকাল-একাল

১৫-২০ টাকায় খাসি, ৮০-১০০ টাকায় গরু কিনে কোরবানি হতো

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুন ২০২৫

শৈশবের ঈদ মানেই ছিল আনন্দ। পুরো গ্রামের মানুষ মিলে আনন্দ করতাম। ৮০ থেকে ১০০ টাকায় গরু কিনে কোরবানি করা হতো ৭ থেকে ৮ পরিবার মিলে। সে সময়ের ৮০ থেকে ১০০ টাকার গরু বর্তমানে দেড় থেকে দুই লাখে টাকায় বিক্রি হয়। গরু কোরবানি শেষে বিকেলে বাউল-ভাটিয়ালিগানের আয়োজন হতো।

জীবনের ৮০ বছর পার করে শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের ঈদগুলোর কথা মনে পড়ে। এখন থাকি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডের বাড়িতে। আছেন স্ত্রী, সন্তান ও নাতিরা। বাবা আবদুল লতিফ ধোবাউড়ার কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তানিদের গুলিতে নিহত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর পাস করে ১৯৭৪ সালে ঈশ্বরগঞ্জ কলেজে প্রভাষক হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দিই। ২০০৮ সালে অবসরে গেছি।

ষাটের দশকের কথা। তখন আমার স্কুলশিক্ষক বাবা ৩২ টাকা ৫০ পয়সা বেতন পেতেন। কোরবানির ঈদে ১৫ থেকে ২০ টাকায় খাসি কেনা হতো। সচ্ছল ৭ থেকে ৮ পরিবার মিলে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় গরু কোরবানি দেওয়া হতো। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে ঈদগাহে নামাজে যেতাম। বড়দের সালাম করলে সিকি, আধুলি সালামি পেতাম। আমাদের ছেলেবেলায় মা-চাচিরা ঈদের জন্য হাতে সেমাই বানাতেন দুই দিন আগে থেকেই। কিন্তু এখন বাজার থেকে কিনে আনা সেমাই ঝটপট রান্না হয়। হাতে তৈরি সেমাইয়ের মধ্যে যে আবেগ জড়িয়ে থাকত, তা এখনকার প্রজন্ম উপলব্ধি করতে পারবে না। সকাল সকাল কোরবানি হতো। মাংস কাটার পর প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস দিয়ে আসতাম। কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জীবন থাকলেও সচ্ছল পরিবারগুলো কোরবানি দিত।

আমাদের গ্রামের বাড়ি ছিল ভারতের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামে। ঈদের দিন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতাম। এলাকায় বাউল, ভাটিয়ালি ও ভাইওয়াগানের আসর বসত। তখন টিভি ও এখনকার মতো মুঠোফোন ছিল না। বিনোদন ছিল লোকজ গান। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সিনেমা চলত ময়মনসিংহ শহরের অলকা সিনেমা হলে। যখন হাইস্কুলে পড়ি, ধোবাউড়া থেকে ময়মনসিংহ শহরে বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে আসতাম। তখন খুবই আনন্দ হতো।

আমাদের শৈশব-কৈশোরে আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনগুলো খুব মজবুত ছিল। আমরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। কিন্তু এখন ঈদ ফিকে মনে হয়। সব আছে, কিন্তু আনন্দ নেই। আগে লোকদেখানো ছিল না, এখন মনে হয় সব লোকদেখানো।

যে আমি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কয়েকজন মিলে গরু কেনা দেখেছি, সে আমার পরিবার এবার ৯০ হাজার টাকায় গরু কিনেছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় দাম অনেক কম। সামাজিক বন্ধন যদি বাড়ত, উৎসবে মানুষের আনন্দ আরও বাড়ত।