ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি জমিতে বিএনপি নেতার অবৈধ ঘর গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বরগুনা’র বেতাগী’তে সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত বরগুনা জেলায় শীর্ষে বেতাগী মডেল স.প্রা.বি  টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সচেতন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বেতাগীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

খোলা থাকার নির্দেশ, অমান্য করে তালা ঝুলছে নলছিটির নিকারিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকার ঘোষিত বিশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৭ মে (শনিবার) দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার কথা থাকলেও নলছিটি উপজেলার ৫০ নং নিকারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক কারোরই উপস্থিতি ছিল না। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এসএম সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল থেকে যাতায়াত করেন এবং প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। অনিয়ম নিয়ে কেউ মুখ খুললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক মেহেদি হাসান বলেন, “স্কুলে ভবন আছে কিন্তু শিক্ষা নেই। বাধ্য হয়ে সন্তানদের অন্যত্র পড়াচ্ছি, যদিও এই স্কুল আমাদের বাড়ির একদম পাশে।”

বেলা ১২টার দিকে সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস সরদার বিদ্যালয়ে আসেন এবং জানান, “সকালে আমরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে গিয়েছি।” দুপুর ১২:৫৮ মিনিটে বিদ্যালয়ের চাবি নিয়ে হাজির হন দপ্তরি মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “স্যারেরা না থাকলে আমি একা কি করবো।

প্রধান শিক্ষক এসএম সেলিম দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে জানান, “সকালে এসে হাজিরা দিয়ে আমি মেয়েকে বরিশাল সদর গার্লস স্কুল থেকে বাসায় দিয়ে এসেছি, এখন এসে পৌঁছেছি।

তার এমন দায়সারা উত্তরে ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকরা। এসময় অভিভাবক এরশাদ আলী অভিযোগ করেন, “প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

পরে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমরা অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খোলা থাকার নির্দেশ, অমান্য করে তালা ঝুলছে নলছিটির নিকারিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

আপডেট সময় : ১০:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকার ঘোষিত বিশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৭ মে (শনিবার) দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার কথা থাকলেও নলছিটি উপজেলার ৫০ নং নিকারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক কারোরই উপস্থিতি ছিল না। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এসএম সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল থেকে যাতায়াত করেন এবং প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। অনিয়ম নিয়ে কেউ মুখ খুললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক মেহেদি হাসান বলেন, “স্কুলে ভবন আছে কিন্তু শিক্ষা নেই। বাধ্য হয়ে সন্তানদের অন্যত্র পড়াচ্ছি, যদিও এই স্কুল আমাদের বাড়ির একদম পাশে।”

বেলা ১২টার দিকে সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস সরদার বিদ্যালয়ে আসেন এবং জানান, “সকালে আমরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে গিয়েছি।” দুপুর ১২:৫৮ মিনিটে বিদ্যালয়ের চাবি নিয়ে হাজির হন দপ্তরি মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “স্যারেরা না থাকলে আমি একা কি করবো।

প্রধান শিক্ষক এসএম সেলিম দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে জানান, “সকালে এসে হাজিরা দিয়ে আমি মেয়েকে বরিশাল সদর গার্লস স্কুল থেকে বাসায় দিয়ে এসেছি, এখন এসে পৌঁছেছি।

তার এমন দায়সারা উত্তরে ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকরা। এসময় অভিভাবক এরশাদ আলী অভিযোগ করেন, “প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

পরে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমরা অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।