ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি জমিতে বিএনপি নেতার অবৈধ ঘর গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বরগুনা’র বেতাগী’তে সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত বরগুনা জেলায় শীর্ষে বেতাগী মডেল স.প্রা.বি  টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সচেতন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বেতাগীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট

জে বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বখ্যাত উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকা আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাদাসিধে জীবনযাপন ও সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার জন্য পরিচিত এই নেতা ‘বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট’ নামে খ্যাতি পেয়েছিলেন।

উরুগুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’- এ দেওয়া এক পোস্টে হোসে মুহিকার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনি আমাদের যা দিয়েছেন এবং এই দেশের মানুষের প্রতি আপনার যে ভালোবাসা ছিল, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

হোসে মুহিকার মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যনালির ক্যানসারে ভুগছিলেন।

তরুণ বয়সে হোসে মুহিকা ছিলেন একটি বামপন্থী গেরিলা সংগঠন টুপামারোস ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট (এমএলএন-টি)- এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬০- এর দশকে এই সংগঠন সরকারের বিরুদ্ধে হামলা, অপহরণসহ নানা সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়। যদিও মুহিকা সব সময়ই বলে এসেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হত্যা করেননি।

মুহিকার জীবনে চরম অধ্যায় শুরু হয় ১৯৭০ সালে এক অভিযানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর। এরপর তিনি চারবার গ্রেপ্তার হন এবং একাধিকবার জেল থেকে পালাতে সক্ষম হন। ১৯৭৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাঁকে ‘৯ জিম্মির’ একজন হিসেবে বন্দি করে রাখা হয় এবং দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় একাকী, অমানবিক পরিবেশে বন্দি থাকতে হয়। নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে হোসে মুহিকা বলেছিলেন, ‘পিঁপড়ার সঙ্গেও আমি কথা বলেছি।’

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৫ সালে মুক্তি পান হোসে মুহিকা। এরপর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে পার্লামেন্ট সদস্য হন এবং দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে বামপন্থী জোট ফ্রেন্তে অ্যাম্পলিও সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এবং ২০১০ সালে ৭৪ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন।

প্রেসিডেন্ট হয়েও মুহিকা বাস করতেন এক পুরনো খামারবাড়িতে, নিজ হাতে কৃষিকাজ করতেন, নিজের গাড়ি চালাতেন এবং বেতনের একটি বড় অংশ দান করতেন দুঃস্থদের জন্য। ভোগবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং সমাজকল্যাণমূলক সংস্কার কর্মসূচি তাঁকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

বিশ্বখ্যাত উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকা আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাদাসিধে জীবনযাপন ও সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার জন্য পরিচিত এই নেতা ‘বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট’ নামে খ্যাতি পেয়েছিলেন।

উরুগুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’- এ দেওয়া এক পোস্টে হোসে মুহিকার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনি আমাদের যা দিয়েছেন এবং এই দেশের মানুষের প্রতি আপনার যে ভালোবাসা ছিল, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

হোসে মুহিকার মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যনালির ক্যানসারে ভুগছিলেন।

তরুণ বয়সে হোসে মুহিকা ছিলেন একটি বামপন্থী গেরিলা সংগঠন টুপামারোস ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট (এমএলএন-টি)- এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬০- এর দশকে এই সংগঠন সরকারের বিরুদ্ধে হামলা, অপহরণসহ নানা সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়। যদিও মুহিকা সব সময়ই বলে এসেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হত্যা করেননি।

মুহিকার জীবনে চরম অধ্যায় শুরু হয় ১৯৭০ সালে এক অভিযানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর। এরপর তিনি চারবার গ্রেপ্তার হন এবং একাধিকবার জেল থেকে পালাতে সক্ষম হন। ১৯৭৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাঁকে ‘৯ জিম্মির’ একজন হিসেবে বন্দি করে রাখা হয় এবং দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় একাকী, অমানবিক পরিবেশে বন্দি থাকতে হয়। নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে হোসে মুহিকা বলেছিলেন, ‘পিঁপড়ার সঙ্গেও আমি কথা বলেছি।’

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৫ সালে মুক্তি পান হোসে মুহিকা। এরপর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে পার্লামেন্ট সদস্য হন এবং দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে বামপন্থী জোট ফ্রেন্তে অ্যাম্পলিও সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এবং ২০১০ সালে ৭৪ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন।

প্রেসিডেন্ট হয়েও মুহিকা বাস করতেন এক পুরনো খামারবাড়িতে, নিজ হাতে কৃষিকাজ করতেন, নিজের গাড়ি চালাতেন এবং বেতনের একটি বড় অংশ দান করতেন দুঃস্থদের জন্য। ভোগবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং সমাজকল্যাণমূলক সংস্কার কর্মসূচি তাঁকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এনে দেয়।