ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শালিণ্য’র সভাপতি মাহফুজা খানম, ৮ম বারের মত সম্পাদক কিশোর বালা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় মির্জাগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ার্স ফ্যামিলির নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি শাওন ও সম্পাদক তারেক মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে খেলাধুলার বিকল্প নেই,মোঃ ফজলুল করিম মিঠু মিয়া স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে —কার্নিভাল উদ্বোধনে চিফ হুইপ বেতাগীতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির জন্মদিন পালিত বেতাগীতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির জন্মদিন পালিত বরগুনায় ‘সাই-ম্যাজিক কার্নিভাল’ উদ্বোধন করলেন চিফ হুইপ মনি সরকার ভাল ভাল করছে বলেই বিরোধী দল সমালোচনা করারও সুযোগ পাচ্ছে না: চীফ হুইপ

‘ঝোপখালী পাখির চর’ হতে পারে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলার ‘ঝোপখালী পাখির চর’ এ গড়ে উঠেছে পাখিদের অভয়াশ্রম। এ চরটি হতে পারে আগামীর আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। দক্ষিণ এ উপকূলের বিষখালী নদীর মোহনায় সর্বশেষ জেগে ওঠা দ্বীপচরে ‘ঝোপখালী পাখির চর’। ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার জীববৈচিত্র্য। এখানে রয়েছে পাখিদের অভয়ারণ্য। চরের ভেতরে একেবেঁকে বয়ে গেছে ছোট ছোট ৫-৭টি নালা। এসব নালায় রয়েছে নানা সুস্বাদু প্রজাতির মাছ।

সরজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের সময় চরটি পানিতে প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় করে উপভোগ করা যায় এখানকার পাখির কলতান ও বিস্তৃত বনাঞ্চলের সবুজের সমারোহ। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণের এ উপকূলীয় জনপদ। ফলে জেগে ওঠা নতুন চর দেখে জনমনেও জেগে উঠেছে নতুন সম্ভাবনা।

ঝোপখালীর চরকে ঘিরে এখানের জনজীবনে জেগে উঠেছে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। বিষখালী নদীর বুক চিরে আগামী দশকে এখানে আরো ভূমি জেগে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তাদের সামনে এখন নতুন ভূখন্ডের হাতছানি।

ইতোমধ্যে ‘ঝোপখালী পাখির চর’ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব খন্দকার নাজমুল হুদা শামিম। এছাড়াও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতে নান্দনিক সৌন্দর্য ও পর্যটকদের আকর্ষণে এ চরটি পরিদর্শন করেন বরগুনা জেলার একাধিক জেলা প্রশাসক। যুগ্ম সচিব খন্দকার নাজমুল হুদা শামিম ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে তিনি সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা দক্ষিণের উপকূলীয় জেলার এ চরের প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হবেন যে কোনো ভ্রমণপিয়াসী, পর্যটক। হয়তো তারা অনেকেই জানেন না ঘুরে বেড়ানোর জন্য তার এলাকায় এমন একটি সুন্দর জায়গা রয়েছে। পাখির কলতান ও সবুজের সমারোহ আর ছৈলা গাছের ডালে ডালে পাখির বাসা যেন ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকদের মনকে আন্দোলিত করে। ঐ এলাকার বাসিন্দা ফোরকান হোসেন ইমারত আশা প্রকাশ করেন বলেন, সরকারি নজরদারি আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে গড়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট।

এ বিষয়ে পরিবেশ কর্মী ও পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের নদীমাতৃক বরগুনা জেলার যে দ্বীপ চরগুলো আছে সেখানে দেখা যায়, শীতকালীন সময় অনেক অতিথি পাখি ও দেশীয় পাখি এই দ্বীপচরে এসে আশ্রয় নেয়। এ পাখির চরে বালিহাস, বক, মদন টাকসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। এ স্থানটি পাখির জন্য একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, অতিথি পাখি যেগুলো ওখানে আসছে সেগুলো সিজনাল চলে যায় তবে একবার আসলে পরবর্তী বছরে অবশ্যই বংশধরেরা আসবেই। আমরা জেনেছি এখানে পাখি শিকার করা হয়। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি পাখি শিকার বন্ধের। পাখি ডিম পাড়ার জন্য সেখানে বক্স তৈরি করে দিতে হবে।

পরিবেশ কর্মী এবং সাংবাদিকেরা পাখির চরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি পর্যবেক্ষক টিম গঠন করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের বরগুনা জেলা সন্বয়কারী হাসানুর রহমান বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ঘেঁষেই প্রচুর সম্ভবনাময় এ স্পটটি এখনো উন্মোচিত হয়নি। দেশ তো দূরের কথা এমনকি এলাকার মানুষের কাছেই অজানা। এ জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর বেতাগী উপজেলার সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এ থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে পারে।

এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’ আসলে যেখানে পাখি বসে আপাতত সেখানে আমরা কোন স্থাপনা করতে যাচ্ছি না, কারণ ওখানে মানুষ গেলে জায়গাটা নষ্ট করে ফেলবে। তাই আমরা একটু দূরে কিছু বেঞ্চ তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি, ওখানে বসে পাখিদের দেখা যাবে। ঈদের আগেই এর কাজ শেষ হবে আশা করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কেউ পাখি স্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, কেউই ছাড় পাবে না। পাখিদের অভয় আশ্রয়স্থল ঝোপখালীর চরকে পাখিদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসাবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন থেকে আরো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে অভয় আশ্রম করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলায় একটি পর্যটন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে পাখির চরকে অভয় আশ্রম করার।

এমনিতেই সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য ‘ঝোপখালী পাখির চর’। অবশ্য এর সাথে যোগ হয়েছে চর লাগোয়া বেতাগী পৌরশহর থেকে ঝোপখালী, ছোট ছোপখালী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বিষখালী নদীর ভাঙনরোধে নদী শাসনের কাজ চলায় ওই এলাকা এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খুব কাছ থেকে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সেখানে প্রতিদিন মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালে জানুয়ারিতে বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই চরের নামকরণের ফলক ও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে চরটির শুভ সুচনা করা হয়। আরও আগে ২০২১ সালে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মিরা ট্রলার যোগে বিষখালী নদীর ঝোপখালী মোহনায় জেগে ওঠা ওই চরটি আবিস্কার করেন।

বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী)- আসনের এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি এ বিষয়ে বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট গড়তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘ঝোপখালী পাখির চর’ হতে পারে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলার ‘ঝোপখালী পাখির চর’ এ গড়ে উঠেছে পাখিদের অভয়াশ্রম। এ চরটি হতে পারে আগামীর আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। দক্ষিণ এ উপকূলের বিষখালী নদীর মোহনায় সর্বশেষ জেগে ওঠা দ্বীপচরে ‘ঝোপখালী পাখির চর’। ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার জীববৈচিত্র্য। এখানে রয়েছে পাখিদের অভয়ারণ্য। চরের ভেতরে একেবেঁকে বয়ে গেছে ছোট ছোট ৫-৭টি নালা। এসব নালায় রয়েছে নানা সুস্বাদু প্রজাতির মাছ।

সরজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের সময় চরটি পানিতে প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় করে উপভোগ করা যায় এখানকার পাখির কলতান ও বিস্তৃত বনাঞ্চলের সবুজের সমারোহ। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণের এ উপকূলীয় জনপদ। ফলে জেগে ওঠা নতুন চর দেখে জনমনেও জেগে উঠেছে নতুন সম্ভাবনা।

ঝোপখালীর চরকে ঘিরে এখানের জনজীবনে জেগে উঠেছে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। বিষখালী নদীর বুক চিরে আগামী দশকে এখানে আরো ভূমি জেগে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তাদের সামনে এখন নতুন ভূখন্ডের হাতছানি।

ইতোমধ্যে ‘ঝোপখালী পাখির চর’ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব খন্দকার নাজমুল হুদা শামিম। এছাড়াও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতে নান্দনিক সৌন্দর্য ও পর্যটকদের আকর্ষণে এ চরটি পরিদর্শন করেন বরগুনা জেলার একাধিক জেলা প্রশাসক। যুগ্ম সচিব খন্দকার নাজমুল হুদা শামিম ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে তিনি সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা দক্ষিণের উপকূলীয় জেলার এ চরের প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হবেন যে কোনো ভ্রমণপিয়াসী, পর্যটক। হয়তো তারা অনেকেই জানেন না ঘুরে বেড়ানোর জন্য তার এলাকায় এমন একটি সুন্দর জায়গা রয়েছে। পাখির কলতান ও সবুজের সমারোহ আর ছৈলা গাছের ডালে ডালে পাখির বাসা যেন ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকদের মনকে আন্দোলিত করে। ঐ এলাকার বাসিন্দা ফোরকান হোসেন ইমারত আশা প্রকাশ করেন বলেন, সরকারি নজরদারি আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে গড়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট।

এ বিষয়ে পরিবেশ কর্মী ও পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের নদীমাতৃক বরগুনা জেলার যে দ্বীপ চরগুলো আছে সেখানে দেখা যায়, শীতকালীন সময় অনেক অতিথি পাখি ও দেশীয় পাখি এই দ্বীপচরে এসে আশ্রয় নেয়। এ পাখির চরে বালিহাস, বক, মদন টাকসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। এ স্থানটি পাখির জন্য একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, অতিথি পাখি যেগুলো ওখানে আসছে সেগুলো সিজনাল চলে যায় তবে একবার আসলে পরবর্তী বছরে অবশ্যই বংশধরেরা আসবেই। আমরা জেনেছি এখানে পাখি শিকার করা হয়। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি পাখি শিকার বন্ধের। পাখি ডিম পাড়ার জন্য সেখানে বক্স তৈরি করে দিতে হবে।

পরিবেশ কর্মী এবং সাংবাদিকেরা পাখির চরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি পর্যবেক্ষক টিম গঠন করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের বরগুনা জেলা সন্বয়কারী হাসানুর রহমান বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ঘেঁষেই প্রচুর সম্ভবনাময় এ স্পটটি এখনো উন্মোচিত হয়নি। দেশ তো দূরের কথা এমনকি এলাকার মানুষের কাছেই অজানা। এ জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর বেতাগী উপজেলার সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এ থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে পারে।

এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’ আসলে যেখানে পাখি বসে আপাতত সেখানে আমরা কোন স্থাপনা করতে যাচ্ছি না, কারণ ওখানে মানুষ গেলে জায়গাটা নষ্ট করে ফেলবে। তাই আমরা একটু দূরে কিছু বেঞ্চ তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি, ওখানে বসে পাখিদের দেখা যাবে। ঈদের আগেই এর কাজ শেষ হবে আশা করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কেউ পাখি স্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, কেউই ছাড় পাবে না। পাখিদের অভয় আশ্রয়স্থল ঝোপখালীর চরকে পাখিদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসাবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন থেকে আরো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে অভয় আশ্রম করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলায় একটি পর্যটন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে পাখির চরকে অভয় আশ্রম করার।

এমনিতেই সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য ‘ঝোপখালী পাখির চর’। অবশ্য এর সাথে যোগ হয়েছে চর লাগোয়া বেতাগী পৌরশহর থেকে ঝোপখালী, ছোট ছোপখালী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বিষখালী নদীর ভাঙনরোধে নদী শাসনের কাজ চলায় ওই এলাকা এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খুব কাছ থেকে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সেখানে প্রতিদিন মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালে জানুয়ারিতে বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই চরের নামকরণের ফলক ও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে চরটির শুভ সুচনা করা হয়। আরও আগে ২০২১ সালে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মিরা ট্রলার যোগে বিষখালী নদীর ঝোপখালী মোহনায় জেগে ওঠা ওই চরটি আবিস্কার করেন।

বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী)- আসনের এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি এ বিষয়ে বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট গড়তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।