ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খোমেনির ‘বেলায়েত-এ-ফকিহ’ থেকে খামেনেই-উত্তর ইরান: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কারা নুরুল ইসলাম মণির চিফ হুইপের নতুন দায়িত্বে দুই দফায় আনন্দ মিছিল নুরুল ইসলাম মণি সংসদের চিফ হুইপ মনোনীত হওয়ায় বেতাগীতে আনন্দ মিছিল নামের বিভ্রাটে জেল খাটতে হলো নিরপরাধ গৃহবধূকে: পুলিশের ওপর আদালতের অসন্তোষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী মামুনের দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ পাথরঘাটার মানুষ আশুলিয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট জনদুর্ভোগ কমাতে শ্রমিক দলের উদ্যোগে ফুটপাত উচ্ছেদ ‘ঝোপখালী পাখির চর’ হতে পারে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট ভান্ডারিয়ায় বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার এক বেতাগীতে খেজুর ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মারামারি, একজন আহত রাজাপুরে ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক দুই

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে স্থানীয় নাগরিকদের অংশীদারত্ব বাড়াতে এবং বেকারত্ব কমাতে বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার

মো লুৎফুর রহমান রাকিব আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
Jbangla.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

এখন থেকে বিপণন ও বিক্রয় সংক্রান্ত ১৮টি বিশেষ পেশায় অন্তত ৬০ শতাংশ সৌদি নাগরিক নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। খবর গালফ নিউজের।

 

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বেসরকারি খাতে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বিপণন পেশাদাররা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বিপণন ও সৃজনশীল পেশা

 

মন্ত্রণালয়ের প্রথম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিন বা তার বেশি কর্মী কর্মরত আছেন, তাদের বিপণন ও বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে অবশ্যই ৬০ শতাংশ স্থানীয়করণ বা ‘সৌদিকরণ’ নিশ্চিত করতে হবে।

 

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রধান পেশাগুলো হলো— মার্কেটিং ও অ্যাডভারটাইজিং ম্যানেজার (বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক)। বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি, মার্কেটিং স্পেশালিস্ট (বিপণন বিশেষজ্ঞ) এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা। গ্রাফিক ও অ্যাডভারটাইজিং ডিজাইনার এবং পেশাদার ফটোগ্রাফার।

 

এই নিয়ম কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই পদগুলোতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৫ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট করতে এই বেতন কাঠামো বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর রেকর্ডসৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর রেকর্ড

বিক্রয় ও বাণিজ্যিক খাত

 

মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি মূলত বিক্রয় বা সেলস সংক্রান্ত পেশাগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এখানেও বেসরকারি খাতের জন্য ৬০ শতাংশ স্থানীয়করণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রধান পেশাগুলো হলো— সেলস ম্যানেজার (বিক্রয় ব্যবস্থাপক), খুচরা ও পাইকারি বিক্রয় প্রতিনিধি, আইটি এবং টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট বা বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞ।

 

বিপণন খাতের মতো এই নিয়মটিও তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড বা বিশেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

 

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর মূল লক্ষ্য হলো খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা।

 

মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমবাজারকে স্থানীয়দের জন্য আরো প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

 

তবে এই কঠোর সৌদিকরণ নীতির ফলে প্রবাসী কর্মীদের বড় একটি অংশ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া অনেক দক্ষ বিপণন কর্মী এবং বিক্রয় প্রতিনিধি যারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদির বেসরকারি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে। অনেক কোম্পানি এখন বাধ্য হয়েই প্রবাসী কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় সৌদি নাগরিকদের নিয়োগ দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে স্থানীয় নাগরিকদের অংশীদারত্ব বাড়াতে এবং বেকারত্ব কমাতে বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

এখন থেকে বিপণন ও বিক্রয় সংক্রান্ত ১৮টি বিশেষ পেশায় অন্তত ৬০ শতাংশ সৌদি নাগরিক নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। খবর গালফ নিউজের।

 

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বেসরকারি খাতে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বিপণন পেশাদাররা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বিপণন ও সৃজনশীল পেশা

 

মন্ত্রণালয়ের প্রথম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিন বা তার বেশি কর্মী কর্মরত আছেন, তাদের বিপণন ও বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে অবশ্যই ৬০ শতাংশ স্থানীয়করণ বা ‘সৌদিকরণ’ নিশ্চিত করতে হবে।

 

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রধান পেশাগুলো হলো— মার্কেটিং ও অ্যাডভারটাইজিং ম্যানেজার (বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক)। বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি, মার্কেটিং স্পেশালিস্ট (বিপণন বিশেষজ্ঞ) এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা। গ্রাফিক ও অ্যাডভারটাইজিং ডিজাইনার এবং পেশাদার ফটোগ্রাফার।

 

এই নিয়ম কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই পদগুলোতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৫ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট করতে এই বেতন কাঠামো বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর রেকর্ডসৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর রেকর্ড

বিক্রয় ও বাণিজ্যিক খাত

 

মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি মূলত বিক্রয় বা সেলস সংক্রান্ত পেশাগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এখানেও বেসরকারি খাতের জন্য ৬০ শতাংশ স্থানীয়করণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রধান পেশাগুলো হলো— সেলস ম্যানেজার (বিক্রয় ব্যবস্থাপক), খুচরা ও পাইকারি বিক্রয় প্রতিনিধি, আইটি এবং টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট বা বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞ।

 

বিপণন খাতের মতো এই নিয়মটিও তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড বা বিশেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

 

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর মূল লক্ষ্য হলো খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা।

 

মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমবাজারকে স্থানীয়দের জন্য আরো প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

 

তবে এই কঠোর সৌদিকরণ নীতির ফলে প্রবাসী কর্মীদের বড় একটি অংশ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া অনেক দক্ষ বিপণন কর্মী এবং বিক্রয় প্রতিনিধি যারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদির বেসরকারি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে। অনেক কোম্পানি এখন বাধ্য হয়েই প্রবাসী কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় সৌদি নাগরিকদের নিয়োগ দিচ্ছে।