ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি জমিতে বিএনপি নেতার অবৈধ ঘর গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বরগুনা’র বেতাগী’তে সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত বরগুনা জেলায় শীর্ষে বেতাগী মডেল স.প্রা.বি  টেকনাফে আকস্মিক বন্যা; ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা শুরু যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সচেতন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বেতাগীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক টিকটকে অশালীন কনটেন্ট ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্বেগ বেতাগীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গরু দান, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ ঈদের নামাজ শেষ না হতে হতেই হামলা – আহত ৬ বরগুনায় তিন দিনব্যাপী প্রপোজাল রাইটিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে
akashbanglanews24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল সেটিও এখনো রহস্যজনক রয়ে গেছে। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

 

হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল সেটিও এখনো রহস্যজনক রয়ে গেছে। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

 

হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান