শেখ জায়েদ মাদারীপুর প্রতিনিধি
বিয়ে করা এবং পরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন—এই দুই নেশাতেই যেন বুঁদ হয়ে আছেন শিবচরের রুবেল কাজী। একের পর এক বিয়ে, পরকীয়া, এবং যৌতুক দাবির অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবেল কাজীর বিরুদ্ধে বহু নারীকে বিয়ে করে পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও এখনও সে দিব্যি সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে বুক ফুলিয়ে।মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের গোয়ালকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল কাজী। পেশায় একজন প্রবাসী হলেও তার জীবন যাপন এবং আচরণ নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
চারটি বিয়ে, একাধিক অভিযোগ
প্রথম স্ত্রী সাথী বেগম (২৮)-এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেন রুবেল। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় তিনটি কন্যাসন্তান। কিন্তু পরপর তিনটি মেয়ে হওয়ায় রুবেলের আচরণ বদলে যায়। স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব না নেওয়া, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, এমনকি যৌতুকের জন্য চাপ—এসবই ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।পরকীয়ার অভিযোগে স্ত্রী সাথী বেগমকে তালাক দেন রুবেল। এরপর আরও তিনটি বিয়ে করেন। বর্তমানে দুটি স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। বাকি দুজনের সঙ্গে চলছে তার সংসার।সন্তানদের দিকেও নেই ভরণপোষণ
সাথী বেগম বলেন,"তিনটা মেয়ে হয়েছে দেখে ও আমাকে সহ্যই করত না। যৌতুক চেয়ে মারধর করত। এখন আমাদের কোনো খরচই দেয় না।"
তিনি অভিযোগ করেন, সন্তানদের কোনো খোঁজ-খবর নেন না রুবেল, এমনকি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবেন না তিনি।স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান,
"রুবেল একটার পর একটা বিয়ে করে আর মেয়েদের ব্যবহার করে ফেলে দেয়। তার বিরুদ্ধে কথা বললেও কেউ ভয় পায়।"
আরও বলেন, "সে এখনো নতুন বিয়ের জন্য পরিকল্পনা করছে বলেও শুনছি।"সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও আহ্বান
রুবেল কাজীর এমন কর্মকাণ্ডে গোটা এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সমাজকে মুখ খুলতে হবে। যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।