বরিশাল প্রতিনিধি ,
বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ নারী ও পুরুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা পরিবর্তনের লক্ষ্যে বরিশালে একটি বিভাগীয় পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব সাহাবুদ্দিন সরকার। এছাড়াও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুন্নি আক্তার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার জনাব ভবানী শংকর বল, স্থানীয় যুবসমাজ, যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রতিনিধি, সংবাদকর্মী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্কিত প্রচলিত ভুল ধারণা বা জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে তরুণদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। বরিশালে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব সাহাবুদ্দিন সরকার বলেন,
“বরিশালে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা। এখানকার বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারছে না। সামাজিক সংবেদনশীলতার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।”
নারীর অধিকার আদায় ও পেশাগত বৈষম্য প্রসঙ্গে যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রতিনিধি নুসরাত জাহান বলেন,
“অনেক ছেলে নার্সিং পেশায় আসতে চাইলেও সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণে তারা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। সমাজ মনে করে নার্সিং কেবল নারীদের পেশা। কিন্তু পেশা নয়—সমাজকেই নিরাপদ হতে হবে, যেন সবাই নিজের পছন্দের পেশা বেছে নিতে পারে।”
ডিজিটাল সহিংসতা, মানসিক সহিংসতা ও শারীরিক সহিংসতা প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুন্নি আক্তার বলেন,
“পরিবার থেকেই সহিংসতা প্রতিরোধের সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যদি খোলামেলা আলোচনা হয়, তাহলে অনেক সমস্যাই বড় আকার ধারণ করতো না। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে সমাজ সচেতন হতে বাধ্য।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের প্রতিনিধি মেহরাব হোসেন বলেন,
“আজকের অনেক শিশু নিজ পরিবারেই সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কিন্তু তারা জানে না কোথায় বা কীভাবে সহায়তা পাওয়া যায়। নীরবে তারা সহ্য করে যাচ্ছে। এই সহায়তা সংক্রান্ত তথ্যগুলো আরও সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি।”
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার জনাব ভবানী শংকর বল বলেন,
“তরুণরা সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কিন্তু অনেক তরুণ জানেন না সরকারি সংস্থাগুলো কী কী সেবা প্রদান করে। এসব তথ্য জানা থাকলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতো। ভবিষ্যতে তরুণদের নিয়ে আরও অধিবেশন আয়োজন করতে চাই, যেখানে যুব সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
ও -এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর অর্থায়নে চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের আটটি বিভাগে যৌথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সমাজে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নেতিবাচক জেন্ডার ধারণা পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুব ও যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে কাজ করছে প্রকল্পটি।