মোঃ হাফিজুর রহমান বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এস.এম. শাহনেওয়াজ মেহেদীর বদলির আদেশকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে বদলি বাতিলের দাবি জানান।
মানুষের ভাষায়—“দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব, সৎ ও সাহসী এসিল্যান্ডকে হারাতে চাই না।”
মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। মানববন্ধন শেষে ফকিরহাটবাসী বিভাগীয় কমিশনারের নিকট একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
ভূমি অফিসে আমূল পরিবর্তন—শুরু হয়েছিল এক নতুন যুগ
ফকিরহাটে যোগদানের পর থেকেই শাহনেওয়াজ মেহেদী মহোদয় ভূমি প্রশাসনে আনেন দৃশ্যমান ও যুগান্তকারী পরিবর্তন।
দীর্ঘদিনের দালালচক্র, হয়রানি, ঘুষ–অনিয়মমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলেন তিনি।
ফকিরহাটবাসীর চোখে তার বিশেষ সাফল্য—
১. দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা
বহু বছরের দালালচক্র ও অব্যবস্থাপনা দূর করে তিনি অফিসে তৈরি করেন স্বচ্ছ, সৎ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো।
মানুষের ভাষায়—
“ভূমি অফিসে গিয়ে এখন আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না।”
২. দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা
নামজারি, জমাভাগ, রেকর্ড সংশোধন, খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সেবা আগের তুলনায় কয়েকগুণ দ্রুত পাওয়া যেত।
৩. মাঠপর্যায়ে গিয়ে জনগণের সমস্যার সমাধান
তিনি শুধু অফিসে নয়, গ্রামের মানুষের কাছেও গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন—
“এত মানবিক ও কর্মঠ কর্মকর্তা ফকিরহাটে আর আসেনি।”
৪. ফকিরহাট ভূমি অফিস—দেশের রোল মডেল
বর্তমানে ফকিরহাট ভূমি অফিসকে দেশের অন্যতম উদাহরণযোগ্য অফিস হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয়রা।
সবাই বলছে—
“এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান এসিল্যান্ড মেহেদীর।”
বদলির আদেশে ফকিরহাটবাসীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ
হঠাৎ বদলির আদেশ জারি হতেই উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
মানুষের আশঙ্কা—
“তিনি না থাকলে আবার পুরনো অনিয়ম–হয়রানির যুগ ফিরে আসবে।”
এই পরিস্থিতিতে ফকিরহাটবাসী মানববন্ধন করে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে স্মারকলিপি দাখিল করেন।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ ও গণমানুষের বক্তব্য
প্রেসক্লাব সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির বলেন—
“অতীতে ভূমি অফিসে নানা অনিয়ম ছিল। এসিল্যান্ড মেহেদী স্যার তা পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন। এই বদলি ফকিরহাটের জন্য বড় ক্ষতি।”
প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান বলেন—
“তিনি সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনগণের কাছে অত্যন্ত দায়বদ্ধ একজন কর্মকর্তা। তাঁর বদলির খবরে সর্বত্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।”
সাংবাদিক আলী আকবর বলেন—
“দালালমুক্ত ভূমি অফিস আজ ফকিরহাটবাসীর গর্ব। এই পরিবর্তনের স্থপতি এসিল্যান্ড সাহেবকে ছাড়া এ অগ্রগতি ধরে রাখা কঠিন।”
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাজু খান (বিএনপি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী) বলেন—
“তিনি রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে থেকে সবার জন্য কাজ করেছেন। জনগণের স্বার্থেই তাঁর বদলি বাতিল করা জরুরি।”
মনিরুজ্জামান মনি বলেন—
“অফিসের বাইরে মাঠেই বেশি সময় দিয়েছেন তিনি। মানুষের সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
তোহিদুল ইসলাম পলাশ বলেন—
“তিনি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর বদলি মানে মানুষের প্রতি অবিচার।”
মুক্তা বেগম বলেন—
“নারীরা ভূমি অফিসে গেলে ভয় পেত। কিন্তু তাঁর সময় সবাই সম্মান নিয়ে সেবা নিতে পারত।”
“ফকিরহাটের ইতিহাসের সেরা এসিল্যান্ড”—জনতার স্লোগান
মানববন্ধনে কণ্ঠে কণ্ঠে শোনা গেছে—
“এমন সৎ কর্মকর্তা যুগে যুগে আসে না।”
“তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন এক অকুতোভয় সৈনিক।”
“ভূমি অফিসে তিনি যে মানদণ্ড তৈরি করেছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
“আপন মানুষের জন্য তিনি যে যুদ্ধ করেছেন—ফকিরহাট তা ভুলবে না।”
সর্বজনের দাবি—“জনস্বার্থে বদলি বাতিল হোক”
মানুষের একটাই দাবি—
“জনদরদি, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তাকে ফকিরহাটে রেখে দেওয়া হোক।”
ফকিরহাটবাসীর মতে—
“এই বদলির মাধ্যমে কেবল একজন কর্মকর্তাকেই হারানো হবে না, ব্যাহত হবে গত কয়েক বছরের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা।”
তাই তারা আশা করছেন—
জনস্বার্থে এ.এস.এম. শাহনেওয়াজ মেহেদীর বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।