বাংলাদেশের দক্ষিণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা বাগেরহাট। সম্প্রতি আসন বিন্যাস নিয়ে বাগেরহাট রয়েছে আলোচনা শীর্ষে। এরমধ্যে চলছে বাগেরহাট বিএনপি'র গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব বাছাই । ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন শেষে এখন জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব বাছাই পর্ব।
বাগেরহাট বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে খান মনিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন এবং এম এ সালাম।
এর মধ্যে খান মনিরুল ইসলাম জিয়া চ্যারিটিবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মামলার আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘ সাত বছর কারা ভোগ করেছেন। তিনি বর্তমানে বাগেরহাটের রাজনীতিতে এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিশেষ আলোচিত নাম।
ব্যারিস্টার জাকির হোসেন আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের আইনের লড়াই লড়েছেন। ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং এম এ সালাম বাগরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
এবার বিএনপির নেতৃত্ব বাছাই হচ্ছে ভোটের মাধ্যমে। বাগেরহাটে চলছে প্রচার প্রচারণা ও হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা হয়েছিল ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। যদিও তখন ২২ ডিসেম্বর এম এ সালাম ওই কমিটির সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন কমিটি বাতিল হওয়ার জন্য।কিন্তু তার এই আল্টিমেটাম ফলপ্রসূ হয়নি। তখন ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,‘শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপিকে বাগেরহাটে কুক্ষিগত রেখেছিলেন আগের সভাপতি এম এ সালাম। এই কমিটির মধ্যে দিয়ে বিএনপি তার থেকে মুক্ত হলো।'
জানা যায় এম এ সালাম এর নেতৃত্বে যে কমিটি ছিল তার সরাসরি বিরোধিতা করেছিলেন খান মনিরুল ইসলাম এবং খাদেম নাসির আলাপ।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ওয়াহেদুজ্জামান পল্টু বলেন, " ১ জুলাই ২০১০ সালে এম এ সালাম এর নেতৃত্বে যে কমিটি ঘোষণা হয়েছিল তখন তা পকেট কমিটি নামে পরিচিত হয়েছিল এবং তখন যে সম্মেলন চলছিল তাকে আমরা মোবাইল সম্মেলন বলেছিলাম। হঠাৎ করেই ওই কমিটি সবাইকে না জানিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতৃত্ব কার হাতে অর্পিত হয় এর জন্যই এখন অপেক্ষা বাগেরহাট বাসীর। তবে সকল উপজেলায় এবং জেলা সদরে খান মনিরুল ইসলামের ফ্রেশ ইমেজের কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।
সাধারণ ও ত্যাগী কর্মীদের চাওয়া যেন চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা দলীয় নেতৃত্বে না আসতে পারে। কিন্তু পেশী শক্তি ও আর্থিক প্রলোভন উপেক্ষা করে ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।